মানবসেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৫ এএম

মহান আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা। তার সব সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। তাই বিপদাপদে একজন মানুষ অপরজনকে সহযোগিতা করলে খুশি হন আল্লাহ। এজন্য ইসলামে মানবসেবার গুরুত্ব অনেক। আমরা বিভিন্নভাবে মানবসেবায় অংশগ্রহণ করতে পারি। মানবসেবার কয়েকটি দিক নিয়ে আলোচনা করা হলো।

অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো : ইসলামের অন্যতম উত্তম আমল হলো অসহায়, দরিদ্র ও ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ানো। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জনৈক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি (অভাবীকে) খাদ্য খাওয়াবে। (সহিহ বুখারি)

রোগীর সেবা করা : রোগীর সেবা করা অন্যতম পুণ্যময় কাজ। রাসুল (সা.) এই পুণ্যময় কাজকে অপর মুসলিম ভাইয়ের প্রতি হক বলে আখ্যায়িত করেছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, একজন মুমিনের ওপর অপর মুমিনের ছয়টি অধিকার রয়েছে। তার মধ্যে প্রথমটি হলো, যখন কোনো মুমিনের রোগ-ব্যাধি হয়, তখন তার সেবা করা।

ত্রাণ বিতরণ : প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেকেই সাময়িক বা স্থায়ীভাবে নিঃস্ব হতে পারে। সেসব মানুষের সাহায্যে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার বিপদসমূহের কোনো একটি বিপদ দূর করে দেবে, মহান আল্লাহ তার আখেরাতের বিপদসমূহের মধ্য থেকে একটি (কঠিন) বিপদ দূর করে দেবেন। (সহিহ বুখারি)

প্রতিবেশীর হক আদায় : আত্মীয়স্বজনের পর প্রতিবেশী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানবসমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ইসলামে প্রতিবেশীর হককে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি তাগিদ করেছেন যে, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিবেশীকে মিরাসের অংশীদার বানিয়ে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি) রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, যে আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ইমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করে। (সহিহ মুসলিম)

উত্তম ঋণ দেওয়া : কর্জে হাসানার বা উত্তম ঋণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। চির অভিশপ্ত ও হারাম সুদি কারবারকে প্রতিহত করতে হলে কর্জে হাসানার বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি কোনো মুসলিম তার অন্য কোনো মুসলিম ভাইকে দুইবার ঋণ দান করে তাহলে তার আমলনামায় এ অর্থ একবার সদকা করার মতো হবে। (ইবনে মাজাহ)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত