১৫ বছর দাপটে থেকে এখন চান প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৬ এএম

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ১৫ বছর দাপটে ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। নিয়েছেন ইচ্ছামতো সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। ছিলেন বড় ‘আওয়ামী লীগার’। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) রয়েছে নানা অভিযোগ। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ যাচাই করতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাবিবুর রহমান ভোল পাল্টিয়ে এখন বনে গেছেন আওয়ামী লীগের বিরোধী পক্ষের লোক। তত্ত্বাবধায়ক থেকে হতে চাচ্ছেন বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি বঞ্চনার শিকার হয়েছেন এমন দোহায় দিয়ে নানা মহলে চালাচ্ছেন তদবিরও। অথচ উন্নয়ন-সংক্রান্ত মেগা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বেবিচকে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

অভিযোগ উঠেছে, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজে ঠিকাদারদের ফাইল আটকে রেখে তিনি হাতিয়ে নিতেন অর্থ। অনিয়মের কারণে একাধিকবার শাস্তিমূলক বদলিও হয়েছেন। দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে তাকে ফ্লাইট সেফটিতে বদলি করা হলেও তার প্রভাব কমেনি এখনো।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেবিচকে ঘাপটি মেরে থাকা একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে। ওই গ্রুপটি দুদকে অভিযোগ দিয়েছে। কোনো অভিযোগই সত্যতা মেলেনি। বেবিচকও আমাকে এ ধরনের সার্টিফিকেট দিয়েছে। আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো ঠিকাদার বলতে পারবেন না তাদের ফাইল আটকে রেখেছি। যারা এসব অপপ্রচার করছে, তারা আমার ভালো চাচ্ছে না।’

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার নিয়ন্ত্রণে দেশের সব কটি বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। কোনো কাজ হয়েছে দ্রুত সময়ে। আবার কোনো কাজ হয়নি কয়েক বছরেও। শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনালে বিনা টেন্ডারে ১৬ কোটি টাকার কাজ এবং উন্নয়ন-সংক্রান্ত মেগা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের সঙ্গে প্রকৌশলী হাবিব সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দাপ্তরিক তদন্তে এর প্রমাণও পেয়েছে বেবিচক। তারপরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়নকাজের পিডি থাকাকালে তার বিরুদ্ধে দরপত্রে দুর্নীতির প্রমাণ পায় মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। পরে তাকে পিডি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সিভিল সার্কেল-১-এ থাকাকালে অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও খামখেয়ালির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুদক থেকে বেবিচকের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব না দিতে বলা হয় হাবিবুর রহমানকে। কিন্তু তারপরও নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পাওয়াই শুধু নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ কয়েকটি হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের দায়িত্ব পান তিনি।

আরও অভিযোগ উঠেছে, বেবিচক ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিমানবন্দর উন্নয়নকাজের দায়িত্ব পেয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে খানজাহান আলী বিমানবন্দর উন্নয়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর উন্নয়ন, ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়ে ওভারলেকরণ ও নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ে ওভারলেকরণ এবং প্যারালাল টেক্সিওয়ে নির্মাণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ ও বিদ্যমান টার্মিনালের সম্প্রসারণ নবরূপায়ণ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও রানওয়ে সম্প্রসারণ।

এ প্রসঙ্গে বেবিচকের এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুদকের কাছে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে। কিছু অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন। আবার কিছু অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভালো ভালো স্থানে পোস্টিং ছিল তার। এর কারণে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নকশার ত্রুটি থাকলে উন্নয়নের কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। নানা অনিয়মের কারণে তাকে শাস্তিমূলক বদলিও করা হয়েছে। এখন তিনি চেষ্টা করছেন প্রধান প্রকৌশলী হতে।

আওয়ামী লীগের আমলে তিনি বঞ্চনার দোহাই দিয়ে আরও ভালো স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ তিনি বিগত সময়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। অর্থ আদায় করতে ঠিকাদারদের ফাইলও আটকে রাখতেন প্রায়ই। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের ডিজাইন ত্রুটির কারণে কাজটি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রকল্পটি এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। তখন তাকে এ অভিযোগে ডিভিশন সিভিল সার্কেল-৩ থেকে প্রত্যাহার করে বেবিচকের ফ্লাইট সেফটিতে বদলি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত