নামাজ, রোজা ও দরুদ শরিফের মতো ‘ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম’ ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। 'ফাতিহা' অর্থ দোয়া করা বা মোনাজাত করা আর 'দোয়াজ-দাহম' অর্থ বারো। ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম বলতে বারো তারিখের দোয়া বা মোনাজাতকে বোঝায়।
প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম পালন করা হয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম কী।
‘রবিউল আউয়াল’ মাসের ১২ তারিখ আখেরি নবী ও সর্বশেষ রাসুল হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত দিবসকে ‘ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম’ তথা ১২ তারিখের ফাতিহা পাঠ অনুষ্ঠান বলা হয়।
হিজরি সনের তৃতীয় মাস হলো রবিউল আউয়াল। ‘রবি’ অর্থ বসন্তকাল, ‘আউয়াল’ মানে প্রথম; ‘রবিউল আউয়াল’ মানে হলো প্রথম বসন্ত বা বসন্তকালের প্রথম মাস। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২ রবিউল আউয়াল দুনিয়াতে শুভাগমন করেন। এই মাসের ১২ তারিখেই আখেরি নবীর তিরোধান বা ওফাত হয়েছিল।
রবিউল আউয়াল মাসটি মুসলিম সমাজে নবী করিম (সা.)–এর জন্মেরও স্মারক হিসেবে পালিত হয়, যা ‘ফাতিহায়ে দোয়াজ–দাহম’ নামে পরিচিত। কালক্রমে দিনটি ‘মিলাদুন্নবী (সা.)’ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এর অর্থ হলো প্রিয় নবী (সা.)–এর জন্মানুষ্ঠান। ধীরে ধীরে এর সঙ্গে ‘ঈদ’ শব্দ যোগ হয়ে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ রূপ লাভ করে। যার অর্থ হলো মহানবী (সা.)–এর জন্মোৎসব। এ পর্যায়ে আরেকটি পরিভাষাও প্রচলিত হতে থাকে ‘সিরাতুন নবী (সা.) অর্থাৎ নবী (সা.)–এর জীবন চরিত বা জীবনী আলোচনা অনুষ্ঠান।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। আবার এই দিনে তিনি ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এ দিনটি তাই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত।
মানুষকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। ইসলামের নবী রাসুলে করিম হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী ও রাসুল। সমগ্র মানবজাতির জন্য তিনি শান্তি ও কল্যাণের বাণী নিয়ে এসেছিলেন। তাদের কল্যাণেই উৎসর্গীকৃত ছিল মহানবী (সা.)-এর বর্ণাঢ্য ও কর্মময় জীবন। তিনি ছিলেন ন্যায়নিষ্ঠ, সৎ, সত্যবাদী এক মহাপুরুষ; মানবের মুক্তি ও কল্যাণ সাধনায় যিনি জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন। নবুয়ত লাভের আগেই তিনি সততা ও সত্যবাদিতার জন্য ‘আল আমিন’ উপাধিতে ভূষিত হন এবং বিবদমান সব সম্প্রদায় তাঁকে প্রিয় নেতা হিসেবে মেনে নেয়।
আরও পড়ুন
ফাতিহায়ে ইয়াজ-দাহম ও ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম কী?