শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস লিকুর দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:১৩ এএম

হাজার কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-২) গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এবং কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

গতকাল বুধবার কমিশন থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রকাশ্য অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, গাজী হাফিজুর রহমান লিকু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস-২ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার স্ত্রীর নামে রামদিয়া কাশিয়ানীতে মেসার্স রাফি অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজের নামে বিভিন্ন মৌজায় কয়েকশ বিঘা জমি ও মোহাম্মদপুর মধুসিটিতে ৬ নম্বর রোডে ৫৮৩ নম্বর বাড়ির এ-৬ নং ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। এ ছাড়া লিকু উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে ৩ নম্বর রোডে ৪৬ নম্বর সরকারি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপালগঞ্জ পৌরসভায় ১০ শতক জমি ক্রয় ও পৈতৃক জমিতে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার শ্যালকের নামে ছয়তলা বাড়ি, দশতলা কমার্শিয়াল ও আবাসিক ভবন, ঢাকার মোহাম্মদপুরে মধুসিটিতে এক বিঘা জমির ওপর ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন। তার নামে কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ওশান ব্লু রিসোর্ট রয়েছে। লিকুর নিজের ও বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে আরও বিপুল সম্পদ গড়েছেন। তার অবৈধভাবে অর্জিত জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ায় প্রকাশ্য অনুসন্ধানের জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি স্ত্রীর নামে পাঁচতলা বাড়ি, ঢাকার কাফরুলে ১৮৭২ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। এ ছাড়া নিয়োগবাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি ও তার আত্মীয়স্বজন বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুবারের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ছিল ১৫ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৫ টাকা। তার নিজের নামে একটি টয়োটা প্রাডো জিপ, যার মূল্য ৩৭ লাখ ২০ হাজার ও একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার স্টেশন ওয়াগন, যার মূল্য ৮৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রয়েছে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তার ৪ একর জমি, নিজ নামে বরাদ্দকৃত রাজউকের ৩ কাঠার প্লট, ১৪ গ-া অকৃষি জমি, ৪ কাঠার প্লট, চকবাজার সুপার মার্কেটে দোকান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় স্বজনপ্রীতি ও অর্থের বিনিময়ে বহু শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অর্থের বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ, ঠিকাদার কর্র্তৃক জামানতকৃত টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে রূপালী ব্যাংকে স্থানান্তর করে প্রতি কোটিতে ৫০ হাজার টাকা করে কমিশন গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে গাড়ির জ¦ালানি বাবদ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ অর্থে তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরে ডুপ্লেক্স বাড়ি, ঢাকার ধানম-িতে ও উত্তরায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং শেরপুরে জমি কেনেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত