লেবাননে কোন কোন যন্ত্রে বিস্ফোরণ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৪৯ পিএম

লেবাননে পরপর সমন্বিত বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরাস আবিয়াদ বৈরুতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন। 

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, লেবাননে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র বিস্ফোরিত হওয়ার খবর আসছে। এর মধ্যে আছে ওয়াকিটকি, রেডিও, ল্যাপটপ, সৌরবিদ্যুতের প্যানেল, এমনকি মোবাইল ফোনও।

কিছু গাড়ি বিস্ফোরিত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু গাড়িগুলো নিজস্ব ত্রুটিজনিত, নাকি এর ভেতরে থাকা কোনো যন্ত্রের কারণে (ওয়াকিটকি, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি) বিস্ফোরিত হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।

মঙ্গলবার এক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় চার হাজার পেজার বিস্ফোরিত হয়। এর একদিন পরে ওয়াকি-টকি রেডিও, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং এমনকি সৌর প্যানেলসহ হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইসগুলোর বিস্ফোরণ ঘটে।

আবিয়াদ বলেছেন, আহতদের মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি রোগী নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছে এবং ৪০০ জনের সার্জারি এবং অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন।

বিস্ফোরণগুলো মূলত রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপত্যকা, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে হয়, যেসব এলাকাগুলোকে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এসব অঞ্চলে হিজবুল্লাহর সদস্যরা যোগাযোগের জন্য তারহীন যন্ত্র ওয়াকিটকিগুলো ব্যবহার করতেন।

যদিও শুরু থেকে পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় ইসরায়েলকে দায়ী করেছে হিজবুল্লাহ। তবে এ পর্যন্ত ইসরায়েল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

রয়টার্স জানায়, ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের পর বিস্ফোরিত যন্ত্রগুলোতে জাপানি রেডিও সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান "আইসিওএম" এবং "জাপানে তৈরি" লেবেল দেখা গেছে। 

লেবাননের এক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ পাঁচ মাস আগে যখন পেজারগুলো কিনেছিল তখন একই সাথে ওয়াকিটকিগুলোও কিনেছিল।

তবে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ এসব বিস্ফোরণের জন্য দায়ী। হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা বলছেন, ‘বিস্ফোরণটি ছিল হিজবুল্লাহর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা লঙ্ঘন।‘

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত