ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভোট

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৫০ এএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ জরুরি অধিবেশনে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলদারিকে বেআইনি ঘোষণা করে একটি মূল প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) উপদেষ্টা কমিটির মতামতকে অনুমোদন দিয়ে এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বুধবার প্রস্তাবটি ফিলিস্তিন কর্র্তৃপক্ষ উত্থাপন করেছিল এবং বাংলাদেশসহ ৫৩টি দেশ কো-স্পনসর করে। প্রস্তাবের পক্ষে ১২৪টি দেশ ভোট দেয় এবং বিপক্ষে ১৪টি এবং ৪৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

বাংলাদেশ কো-স্পনসর হিসেবে পক্ষে ভোট দেয়।

জানা গেছে, নিউ ইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলমান দশম বিশেষ জরুরি অধিবেশনে রেজ্যুলেশনটি গৃহীত হয়। নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিকে অবৈধ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত কর্র্তৃক গত ১৯ জুলাই পরামর্শমূলক মতামতের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলমান দশম বিশেষ জরুরি অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়েছে।

রেজ্যুলেশনটি ভোটের জন্য উপস্থাপিত হলে ১২৪টি দেশ এটির পক্ষে ও ১৪টি দেশ বিপক্ষে ভোট প্রদান করে এবং ৪৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। কো-স্পনসর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ রেজ্যুলেশনটির পক্ষে ভোট দিয়েছে।

স্থায়ী মিশন জানায়, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সাম্প্রতিক পরামর্শমূলক মতামতের আলোকে, রেজ্যুলেশনটিতে ইসরায়েলকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে তার বেআইনি উপস্থিতি বন্ধ করা এবং এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এটিতে জানানো বিভিন্ন আহ্বানের মধ্যে রয়েছে অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অন্যায় কাজের কারণে যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পূরণে একটি আন্তর্জাতিক মেকানিজম প্রতিষ্ঠার আহ্বান। এ ছাড়া এই রেজ্যুলেশন বাস্তবায়নের ওপর রিপোর্ট পেশ করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাবিষয়ক চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের আলোকে ইসরায়েল দ্বারা সংঘটিত নৃশংস অপরাধের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয় রেজ্যুলেশনটিতে।

একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উপায় খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আগামী এক বছরের মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্র্তৃক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় রেজ্যুলেশনটির মাধ্যমে। বস্তুত, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে রেজ্যুলেশনটি।

রেজ্যুলেশনটি উপস্থাপন উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ জরুরি অধিবেশন চলাকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রদূত মুহিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বর্ণনা করে এটিকে স্বাগত এবং সব সদস্যরাষ্ট্রকে এটি মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি গাজায় চলমান নৃশংসতা এবং হাজার হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনির মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত রেজ্যুলেশন ২৭২৮-এর আলোকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানা অনুযায়ী দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি অর্জনের একমাত্র পথ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মুহিত।

এ ছাড়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারি এবং গণহত্যার মতো অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি গাজায় গুরুতর মানবিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের প্রদত্ত বিবৃতিরও প্রশংসা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত