যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনে সরকারি কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত সরকারি ডিভাইসে জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
দেশটিতে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার দ্বারা সৃষ্ট হুমকি রোধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শক্তিশালী ন্যাশনাল সিকিউরিটি এন্ড ডিফেন্স কাউন্সিল (আরএনবিও)। খবর বিবিসি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার আরএনবিও জানায়, টেলিগ্রাম ব্যবহার করে শত্রুরা সাইবার হামলা, বিপজ্জনক সফটওয়্যার সরবরাহ এবং ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে।
একে অপরের সাথে যুদ্ধরত দুইদেশ ইউক্রেন এবং রাশিয়ায় সরকার এবং সামরিক বাহিনীতে টেলিগ্রাম অ্যাপটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
এক বিবৃতিতে, আরএনবিও জানায় যে, ইউক্রেনের শীর্ষ তথ্য সুরক্ষা কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনী এবং আইন প্রণেতাদের সাথে বৈঠকের পর টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান কিলিরো বুদানভ বলেন, টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের তথ্য খুব সহজেই হাতিয়ে নেয়া সম্ভব। এমনকি কোনো ম্যাসেজ মুছে ফেললে তাও উদ্ধার করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় বাক স্বাধীনতাকে সমর্থন জানিয়েছি। তবে বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে টেলিগ্রাম ইস্যু হতে পারে না। কারণ এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ।
তবে বিভ্রান্তি প্রতিরোধে আরএনবিওর কেন্দ্রের প্রধান অ্যান্ড্রি কোভালেঙ্কো জানিয়েছেন যে, টেলিগ্রাম ব্যবহারে এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরকারি এবং সামরিক সদস্যদের অফিসিয়াল ডিভাইসগুলিতে প্রয়োগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত স্মার্টফোনে নয়। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ফোনে টেলিগ্রাম চালাতে পারবেন সবাই।
গত বছর, ইউএসএআইডি-ইন্টারনিউজের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ইউক্রেনে সংবাদ আদান প্রদানের জন্য শীর্ষ সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ছিল টেলিগ্রাম। মোট ইউক্রেনীয়দের ৭২ শতাংশই অ্যাপটি ব্যবহার করে।
