১১২ দিন পর...

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৪০ এএম

ঢাবি প্রতিনিধি : তারণ্যের আন্দোলন। অবরুদ্ধ সময়ের সংগ্রাম-সেøাগান। রক্তঝরা জুলাই-আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ ১১২ দিন পর প্রাণ ফিরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। গতকাল রবিবার শুরু হয়েছে প্রায় সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ক্লাস। দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে ডিনস কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। গতকাল সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে তারা স্বস্তিবোধ করছেন।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস বিমুখ রয়েছি। পড়াশোনার প্রতি অনীহা চলে এসেছে। ক্লাসে ফিরতে পারছি, ভালো লাগছে অনেক।

আরেক শিক্ষার্থী সাদমান বলেন, ক্লাস করতে না করতে শরীর ও মনে অবসাদ সৃষ্টি হয়েছিল। দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর থেকে সারা দিন ফোন চালানো ছাড়া অন্য কোনো কাজ করতাম না। এখন অন্তত ক্লাস শুরু হওয়ায় এদিকে মনোযোগ আসবে। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে, ক্লাসে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানসিক ট্রমা কাটাতেও কাজ করবে প্রশাসন। উপাচার্য বলেন, আমরা দীর্ঘদিন পরে ক্লাসে ফিরতে পারছি। সামনে আমাদের বড় মাপের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা কিছু সময় পড়াশোনার মধ্যে থাকতে পারিনি। কীভাবে সেটা দ্রুত সময়ে পুষিয়ে নেওয়া যায় আমাদের সে ব্যাপারে কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক সবাই মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে এ পর্যন্ত এসেছেন। আমরা সেই ট্রমা ও সার্বিক মানসিক ও শারীরিক কল্যাণে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।

গত ২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বন্ধ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস। তবে এ সময়ে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ক্লাস চালুর কথা থাকলেও প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ে। এরপর শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে ৭ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন। কোটা আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন মাস (১১২ দিন) বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর হল ও অফিস কার্যক্রম শুরু হলেও ক্লাস শুরু করা যায়নি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেন। ২৭ আগস্ট নতুন উপাচার্য হন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ১৩ সেপ্টেম্বর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ক্লাস শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত