যশোরের মনিরামপুরে অতিবৃষ্টির প্রভাবে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ে দলবদ্ধ হয়ে লোকলয়ে ঘুরছে কালোমুখো হনুমান। ছুটছে গাছে-গাছে, বাড়ির ছাদ থেকে ছাদে। ক্ষুধা নিবারণ করতে তারা দেদারছে খাচ্ছে গাছের পাতা।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মনিরামপুর পৌরশহরের দোলখোলা এলাকায় আলমগীর কবীরের ছাদ বাগানেও তাদের দেখা মেলে। ক্ষুধায় কাতর একটি হনুমান ইপিল-ইপিল গাছের পাতা গোগ্রাসে খাচ্ছিল। খুব কাছ থেকে তার ছবি তুললেও সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ ছিল না।
জানতে চাইলে আলমগীর কবীর বলেন, ‘প্রায়ই কেশবপুর উপজেলা থেকে হনুমানের দল আসে। গাছের পেয়ারা, আমড়াসহ খেয়ে ফেলে ছাদ বাগানের সবজিও। বর্তমানে গাছে পেয়ারা ও আমড়া নেই। তাই কিছু না পেয়ে ক্ষুধা নিবারণে গাছের পাতা খাচ্ছে।’
জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী কালোমুখো হনুমানের বাস। মূলত ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পরিবারের সদস্যরা একসাথে খাবার খুঁজে ফেরে। অতিবৃষ্টিতে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও হনুমানের খাদ্য সংগ্রহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। অভাব দেখা দিয়েছে খাবারের উৎসে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফলবাগান ও ফসলের ক্ষেত। খাদ্যাভাবে হনুমান লোকালয়ে প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। তারা ফল-ফসলের ক্ষতি করছে। ফলে অনেকে তাদের তাড়িয়েও দিচ্ছেন।
গত এক বছর ধরে মনিরামপুরে ফরেস্ট অফিসার নেই। তাই এ ব্যাপারে কথা হয়, কেশবপুর উপজেলা ফরেস্টার হাবিবুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হনুমানের জন্য প্রতিদিন পাকা কলা, বাদাম ও সবজি মিলে ৭০ কেজি খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।’
হনুমানের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের গণনা করার বিধানও নাই। তবে এ এলাকায় তিন শতাধিক হনুমান রয়েছে। তারা দলে দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় থাকে। এতে সবাইকে খাবার দেওয়া খুবই কঠিন কাজ। তারপরেও আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।’
মামলা এখনো বিএনপির মাথাব্যথা