মিতু হত্যার আসামি সোর্স মুছাকে ‘গুমের অভিযোগ’ স্ত্রীর

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৩ পিএম

আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার পলাতক আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার মুছাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে গুম করার অভিযোগ এনে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন তার স্ত্রী পান্না আকতার। গতকাল রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এই আবেদন করেন। 

মামলার আবেদনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছাকে পরিকল্পিতভাবে মিতু হত্যা মামলায় জড়িয়ে অপহরণের পর গুম করে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ বিকাল সাড়ে চারটায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পান্না আকতারের করা মামলার আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বিচারক আদেশের জন্য রেখেছেন বলে সিএমপির প্রসিকিউশন শাখা সূত্রে জানা গেছে।  

পুলিশ মুছাকে পলাতক বললেও তার স্ত্রী পান্নার দাবি, ২০১৬ সালের ২২ জুন সকালে বন্দরনগরীর কাঠগড় এলাকার একটি বাসা থেকে তার স্বামীকে পুলিশই তুলে নিয়ে যায়। ওই বছর মুছার সন্ধান চেয়ে চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন পান্না। সেখানেও তিনি একই কথা বলেছিলেন। কিন্তু পুলিশ, প্রশাসনের কেউ এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করে নি।

পান্না আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্বামীকে পুলিশ নিয়ে গেছে। আমার সামনেই নিয়ে গেছে। এরপর থেকেই আর কোনো খোঁজ নেই তার। এতদিন পরিবার, সন্তান এবং প্রশাসনের চাপে হয়রানির ভয়ে কিছু বলিনি। মুছা ছিল বাবুল আক্তারের সবচেয়ে বড় সোর্স। তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, এখন আমি মুছার সন্ধান চাই।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মিতুকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। পরে সেই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক এসপি বাবুল আক্তার, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, এহতেশামুল হক ভোলা, শাহজাহান মিয়া, কামরুল ইসলাম শিকদার মুছা ও খায়রুল ইসলাম। তাদের মধ্যে মুছা পলাতক, ভোলা জামিনে আছেন। বাকিরা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত