ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ঐতিহ্যের একটি বিশেষ অংশ ট্রাম। দেড়শ বছর ধরে সেখানে এই পরিবহন ব্যবস্থা চলছে। এবার সেই ট্রাম পরিষেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানান, কলকাতার জনসংখ্যা এবং যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও, শহরের রাস্তার পরিমাণ বাড়েনি। কলকাতার রাস্তার মাত্র ৬ শতাংশ জায়গা গাড়ির জন্য বরাদ্দ। তাই পরিবহনের বাড়তি চাপ সামলাতে ট্রাম পরিষেবা সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে।
তবে ‘ঐতিহ্য’ হিসেবে পর্যটকদের জন্য মাত্র দুই কিলোমিটার পথে ধর্মতলা থেকে ময়দান পর্যন্ত ট্রাম চালু থাকবে। মূলত দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের জন্য সীমিত পরিসরে ট্রাম চলবে। ২০১৫ সালেও কলকাতায় ২৫টি ট্রাম রুট ছিল, কিন্তু এখন মাত্র তিনটি রুটে এই পরিষেবা চালু রয়েছে। অনেক রুটে কাঠামোগত সমস্যার কারণে এবং মেট্রোর কাজের জন্য ট্রাম চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যটির পরিবহন দপ্তর।
১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় প্রথমবার ঘোড়ায় টানা ট্রামের যাত্রা শুরু হয়। শিয়ালদহ থেকে আর্মেনিয়া ঘাট পর্যন্ত চলত সেই ট্রাম। পরে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘কলকাতা ট্রামওয়ে কোম্পানি লিমিটেড’ গঠন করা হয়। ১৯০২ সালে কলকাতায় প্রথমবার চালু করা হয় বৈদ্যুতিক ট্রাম। ঐতিহ্যবাহী ট্রামের ১৫০ বছর পূর্তি উৎসব হয় ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। দিবসটি উপলক্ষে কলকাতা ট্রাম কোম্পানি বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে। পুরনো আটটি ট্রাম নতুন করে সাজিয়ে পথে নামানো হয়।
পরিবহনমন্ত্রী আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে এক লাখেরও বেশি ইলেকট্রিক যানবাহন নিবন্ধিত হয়েছে, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে, যা ঐতিহ্যবাহী ট্রাম সংরক্ষণ করবে। পরিবহন বিভাগ এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করছে, যা আদালতে জমা দেওয়া হবে। তবে রাজ্য সরকারের এ সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে। কেউ কেউ সরকারের সিদ্ধান্তকে মেনে নিলেও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে না পারাকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেও দেখছেন অনেকেই।
