পাহাড়ের সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘুরতে যাওয়া প্রায় ১৪০০ পর্যটক নিরাপদে সাজেক ছেড়েছেন। ছয় দিন সাজেকে আটকে থাকার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তায় গতকাল সকাল ৭টায় সাজেক থেকে নেমে আসতে শুরু করেন। গতকাল পর্যটকদের ফিরে আসার বিষয়টি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এদিকে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিবেচনায় গতকাল থেকে কাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিন সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করছে জেলা প্রশাসন। গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন খান এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পার্বত্য জেলায় যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে পর্যটক ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে না।’
গতকাল সাজেক জুমঘর ইকো রিসোর্টের ব্যবস্থাপক ইয়ারং ত্রিপুরা বলেন, গতকাল সকালে স্কর্টের মাধ্যমে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো সাজেক ছেড়ে গেছে। বর্তমানে সাজেকে আর কোনো পর্যটক নেই। সাজেক জিপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াসিন আরাফাত বলেন, গতকাল সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের গাড়ি সাজেক থেকে রওনা দেয়। সব গাড়ি নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে ফিরেছে।
এদিকে রাঙ্গামাটির সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনায় ৯ কোটি টাকা ক্ষতির তালিকা তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সরকারি অফিস, ব্যাংকসহ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কমিটি। জেলা প্রশাসনের কোর কমিটি থেকে এই কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।
কমিটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের ভবনে রাখা ৯টি গাড়ি, বনরূপা বাজারে একটি মাইক্রোবাস, কালিন্দীপুরে দুটি মাইক্রোবাস, ১০টি মোটরসাইকেল, ৯টি গাড়ি, ছয়টি সিএনজি অটোরিকশা, ছয়টি ট্রাক, তিনটি বাস, দুটি টু স্ট্রোক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে আটটি ব্যাংকে। এ ছাড়া ১৮টি বাড়ি, ৮৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ৮৫টি ভাসমান দোকান, দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, একটি মসজিদ, একটি বৌদ্ধবিহার ও একটি আসবাবের দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া একটি ট্রাফিক বক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এতে ৯ কোটি ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কমিটি তালিকা তৈরি করে জমা দিয়েছে। ঘটনায় ৯ কোটি ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। তালিকাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তবে গত ২০ সেপ্টেম্বরের সহিংস ঘটনায় দুটি মামলার পর এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। সহিংস ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। অন্যদিকে নিহত অনিক চাকমার বাবা আদরসেন চাকমা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। দুই মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে অজ্ঞাত। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আলী বলেন, এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তসাপেক্ষে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
