সোহেল রানা নামে এক আইনজীবীকে গুমের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট সোহেল রানা নিজেই গতকাল বুধবার এ অভিযোগটি করেন। এদিকে ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গুমের শিকার ১২ জনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে। ১২ জনের মধ্যে দুজন পরে ফিরে এলেও অন্য ১০ জনের সন্ধান এখনো পায়নি তাদের পরিবার। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় ভুক্তভোগী ১০ জনের পরিবার আবেদন জমা দেয়। পরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
অ্যাডভোকেট সোহেল রানা শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও র্যাবের ২০-২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। সোহেল রানা অভিযোগ
করেন, ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি উত্তরা থেকে র্যাব সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। এরপর ছয় মাস গুম করে তাকে অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হয়।
গুমের শিকার ১২ জনের বিষয়ে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমিনুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান নামে দুজন ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর র্যাব কর্তৃক অপহৃত হন। তারা আজ পর্যন্ত ফিরে আসেননি। ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ থেকে সোহেল মিয়াজী রানা নামে একজন গ্রেপ্তার হলেও ফিরে আসেননি। আবদুল্লাহ নামে একজন ২০১১ সালের ১০ জুলাই বনানী থেকে নিখোঁজ হন। ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর ইকবাল হোসেনকে আগারগাঁও থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উঠিয়ে নিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত ফিরে আসেননি। আইনুল ইসলামকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর চৌরাস্তা থেকে ২০২০ সালের ৪ জুলাই উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি ফেরত আসেননি।
২০১৮ সালের ২৭ আগস্ট মোহাম্মদ সাজুকে মোহাম্মদপুর থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তিনি ফিরে আসেননি। কুদ্দুসুর রহমান চৌধুরীকে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর মিরপুর-১ থেকে তুলে নেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল মো. কাইয়ুমকে গাবতলী থেকে তুলে নেওয়া হয়। ভাষানটেক থেকে মো. মোস্তফাকে ২০২০ সালের ৬ জুন উঠিয়ে নেওয়া হয়।
তাজুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে এসব মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এত বছরেও তাদের স্বজনরা জানেন না তারা জীবিত না মৃত। মৃত হলে তাদের লাশ কোথায় দাফন করা হয়েছে। তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ গুম পরিবার’ নামে একটি সংগঠনের পক্ষে ৬৪টি গুমের ঘটনার একটি তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। এগুলোসহ গুমের সব অভিযোগ যাচাই ও পর্যালোচনা শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালমান-আনিসুল-দীপু মনি-পলক দুই মামলায় গ্রেপ্তার : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আরও দুই মামলায় এবং একাত্তর টিভির সিইও মোজাম্মেল হক বাবুকে এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিব তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক গণপূর্তমন্ত্রীসহ ২৪০ জনের নামে মামলা : সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীসহ ২৪০ জনের নাম উল্লেখ করে গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। আদালতে মামলাটিকে নথিভুক্ত করতে সদর থানা-পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কাপাসিয়ার সাবেক এমপি রিমিসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা : গাজীপুরের কাপাসিয়ার এক বিএনপি নেতাকে হত্যার অভিযোগে সাবেক এমপি সিমিন হোসেন রিমি, সাবেক দুই ওসি, জেলা কারাগারের সুপার, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই নেতার ছেলে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাওনাট গ্রামের প্রয়াত নেতা সফিউদ্দিন মাস্টারের ছেলে সোহেল রানা গত সোমবার গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি করেন। আদালত কাপাসিয়া থানার ওসিকে এ বিষয়ে তদন্ত করে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
রিমান্ড শেষে কারাগারে মেনন : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মাইনুল ইসলাম খান পুলক। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহর আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রমনা থানার সেগুনবাগিচা এলাকায় বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার ছয় বছর পর ইমাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি গত ৪ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় এই মামলাটি করেন।
