বাংলাদেশ ক্রিকেটের তারকা সাকিব আল হাসান নিজের অবসর প্রসঙ্গ তোলায় সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিলো সেদিকেই। কিন্তু কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া কানপুর টেস্ট নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বিপক্ষে খেলার চাপ প্রসঙ্গে সাকিব বলেছেন, ‘সর্বশেষ ওরা যখন বাংলাদেশ সফরে এসেছিল (২০২২ সালের ডিসেম্বরে), আমরা ওদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি। টেস্ট সিরিজের একটি ম্যাচের আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েছিলাম। ওদের ৭০ থেকে ৮০ রানের মতো দরকার ছিল। হাতে ছিল ৩ বা ৪ উইকেট। সেখান থেকে (রবিচন্দ্রন) অশ্বিন, শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে খুবই ভালো ব্যাটিং করে ম্যাচ জিতিয়েছে। ওই ম্যাচ ছাড়া আমরা টেস্টে ওদের বিপক্ষে যতটা সফল হতে চেয়েছি, ততটা হতে পারিনি। আগামীকাল আমরা আরেকটি সুযোগ পাবো।’
চেন্নাই টেস্টে বাংলাদেশ যেমন খেলেছে, দলটা তার চেয়ে ভালো বলেই মনে করেন সাকিব, ‘আমার মনে হয় চেন্নাইয়ে আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভালোই খেলেছি। তবে সাড়ে তিন দিনে ম্যাচ শেষ হওয়া আমাদের জন্য আদর্শ ব্যাপার ছিল না। আমাদের মনে হয়েছে চেন্নাইয়ে যেমন খেলেছি, আমরা তার চেয়ে ভালো দল। আগামীকালের ম্যাচে আমরা সেটা দেখাতে চাই।’
ভারত দল হিসেবে পাকিস্তানের তুলনায় কোথায় এগিয়ে—এমন প্রশ্নে সাকিবের উত্তর, ‘আমার মতে পাকিস্তানের বর্তমান দলটা তুলনামূলকভাবে নতুন এবং অনভিজ্ঞ। আমাদের ম্যাচ খেলার সংখ্যার সঙ্গে ওদের সংখ্যার তুলনা করেন, তাহলে দেখবেন আমরাই অভিজ্ঞ। টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা বিশাল এক ফ্যাক্টর।’ যোগ করেন, ‘যদি ভারতের কথা বলি, ওরা বর্তমানে (বিশ্ব) টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকার ১ নম্বর দল। নিজেদের মাঠে সম্ভবত ওরা অজেয় দল। আমি কোথাও একটা পরিসংখ্যান দেখেছি। সেখানে দেখলাম, ভারত নিজেদের মাটিতে (টেস্ট সিরিজে) ৪ হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে অপরাজিত। এতেই বোঝা যায়, ঘরের মাঠে ওরা কতটা ভালো দল। ওরা বাইরেও (বিদেশেও) ভালো করছে। কিন্তু ভারতে ওরা অপরাজিত। যেকোনো দেশের জন্য ভারত সফর কঠিন। আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। আগেও বলেছি, ভারতের সঙ্গে ওদের মাটিতে লড়াই করতে হলে আমাদের খুবই ভালো খেলতে হবে।’
কানপুরের গ্রিন পার্কের উইকেট প্রসঙ্গে সাকিব বলেছেন, ‘ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে যখন খেলবেন; তখন উইকেট খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। তাদের অবশ্যই তেমন অস্ত্র থাকবে, যা দিয়ে তারা আমাদের আক্রমণ করবে। তাদের কোয়ালিটি পেসার, কোয়ালিটি স্পিনার, কোয়ালিটি ব্যাটসম্যান থাকবে। আমার মনে হয় না পিচের কোনো প্রভাব থাকবে। চেন্নাইয়ে যা করেছি, তার চেয়ে ভালো পারফর্ম করতে হবে এটাই একমাত্র বিষয়।’
অবশ্য কানপুর টেস্টের আগে ব্যাটিংয়ে উন্নতির তাগিদ দেন সাকিব, ‘ব্যাটিংয়ের কথা যদি বলি, তাহলে প্রথম ইনিংসের চেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে উন্নতি হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানের আশপাশে অলআউট হয়েছি, দ্বিতীয় ইনিংসে প্রায় ২৫০ রানের মতো করেছি। আমরা যদি (কানপুরে) প্রথম ইনিংসে ৩৫০ রানের মতো করতে পারি, সেটা অনেক বড় অর্জন হবে। প্রথম ইনিংসে ৩৫০ থেকে ৪০০ রান অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে। ড্রেসিংরুমে স্বস্তি আসবে।’
অনেকদিন ধরেই ব্যাটিংয়ের কালো স্ট্র্যাপ কামড়ে ধরে রাখেন সাকিব। কেন এমনটা করেন, সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে বলেন, ‘এটা ব্যাটিংয়ে সহায়তা করছে। আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। গত ৬ মাস ধরে আমি এভাবে ব্যাট করলেই ভালো বোধ করি। রান যতই করি না কেন।’
খুনের মামলা, পুঁজিবাজারে কারসাজি নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব
‘আমার কোনো অনুশোচনা নেই, জীবনে কখনও অনুশোচনা ছিল না’
টি-টোয়েন্টি থেকে সাকিবের অবসর, শেষ টেস্ট খেলতে চান মিরপুরে