গত কয়েকদিন আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর এলাকা পরিদর্শনে আসেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু এবং পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার কাছে স্থানীয় বালু উত্তোলনকারীদের বিষয়ে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান এক কৃষক। এরপরই জলদস্যু জালাল বাহিনী হামলার শিকার হন ওই কৃষক। প্রাণনাশের হুমকিতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগী কৃষক।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান (৪৫) উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল কুব্বাতের ছেলে।
কৃষক মিজানের অভিযোগ, উপদেষ্টাকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অবহিত করায় আমার ওপর জলদস্যু জালাল বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালায়। তাৎক্ষণিক আমি উপদেষ্টার গাড়ির সামনে গিয়ে বিষয়টি জানায়। তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে বলেন। হামলাকারীরা আমাকে বেধড়ক মারধর করে আমার মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। থানায় মামলা করার পর জামিনে এসে পুনরায় আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এখন আমি প্রাণনাশের হুমকিতে বাড়ি যেতে পারছি না।
জানা যায়, জলদস্যু জালাল ও তার বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আজগর জাহাঙ্গীর ২০২২ সালের শুরুর দিকে উপজেলার মুছাপুর ক্লোজারে ৬০০ একর সরকারি খাসজমি দখল করে। সেখানে ভূমিহীন সাজিয়ে বসতভিটা নির্মাণের অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। একই এলাকা থেকে অবৈধভাবে অন্তত ৫০ কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে এই বাহিনী। এরপর ব্যাপক আলোচনায় আসে দলদস্যু জালাল বাহিনী। ২০২৩ সালের শেষের দিকে র্যাবের হাতে জালাল আটক হলেও ওবায়দুল কাদেরের ভাই কাদের মির্জার তদবিরে ছাড়া পেয়ে যায়।
৪ আগস্ট বিকালে জালাল বাহিনী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কাদের মির্জাকে খুশি করতে মিছিল বের করে। কিন্ত পরদিন ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় জালাল বাহিনী বিএনপির মিছিলও করে। এখন তারা স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী বলে দাবি করছে।
গুঞ্জন রয়েছে, কাদের মির্জা ও মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীকে পালিয়ে যেতে সুযোগ করে দেয় এই বাহিনী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নোয়াখালীর সাবেক জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের যোগসাজশে কাদের মির্জা ডাকাতিয়া নদী এলাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে। এর ফলে উজানের পানির চাপে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে তলিয়ে গেছে। রেগুলেটর ভেঙে তলিয়ে যাওয়ার পর এলাকাবাসী কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জলদস্যু জালাল বাহিনীর প্রধান জালালের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, কৃষকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘাটতি পোষাতে ছুটির দিনেও খোলা ১৫০ কারখানা
নারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলাকারীদের সন্ধান দিন: সমন্বয়ক হাসনাত
‘জামায়াতের কর্মীরা জনগণের সম্পদ লুট করে না, করবেও না’