লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান সাঈদ হাসান নাসরাল্লাহ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটির রাজধানী বৈরুতে চালানো হামলায় নাসরাল্লাহসহ আরও একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নাসরাল্লাহকে হত্যার দাবি করে। তবে দীর্ঘ সময় ধরেই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষ বাংলাদেশ সময় গতকাল বিকেলে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ তার শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এদিকে গত সপ্তাহ থেকে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক টানা বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যার জেরে প্রাণ বাঁচাতে দক্ষিণ লেবানন থেকে হাজার হাজার মানুষ বৈরুতে পালিয়ে এসেছে। বৈরুতের সড়কগুলো যেন এখন পালিয়ে আসা মানুষদের অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে পরিণত হয়েছে।
হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার খবরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দেশের ভেতরে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানের সর্বশেষ খবর সম্পর্কে অবগত দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের হাতে হিজবুল্লাহর প্রধান নিহত হয়েছেনÑ এমন খবর জানার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে ইরান হিজবুল্লাহ ও ওই অঞ্চলটিতে সক্রিয় অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (ইরানের সহায়তাপুষ্ট) সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।
শুক্রবার দক্ষিণ বৈরুতে এক বিমান হামলায় হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করার দাবি করে ইসরায়েল। গতকাল শনিবার এক এক্স বার্তায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। এতে বলা হয়, ‘হাসান নাসরাল্লাহ আর বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ পরিচালনা করতে পারবেন না।’
হিজবুল্লাহতে নাসরাল্লাহর কয়েক দশকের নেতৃত্বে গোষ্ঠীটি আঞ্চলিক শক্তি হয়ে উঠেছিল। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের প্রভাবও পাকাপোক্ত করেছিল। তার মৃত্যু কেবল হিজবুল্লাহর জন্য এক বড় ধরনের ধাক্কাই নয়, বরং ইরানের জন্যও একটি ধাক্কা। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিল এই গোষ্ঠী।
ইসরায়েল শুধু নাসরাল্লাহই নয়, আরেক শীর্ষ হিজবুল্লাহ নেতা আলি কারাকিকেও হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে। আইডিএফ বলেছে, হাসান নাসরাল্লাহকে নিশানা করে যে হামলা চালানো হয়েছিল সেই হামলাতেই হিজবুল্লাহর সাউদার্ন ফ্রন্টের কমান্ডার কারাকি নিহত হন।
ইসরায়েলের জন্য যে-ই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে তার কাছেই ইসরায়েল পৌঁছে যাবে বলে অঙ্গীকার করেছেন আইডিএফ চিফ অব স্টাফ জেনারেল হারজি হালেভি। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, এখানে বার্তা খুব পরিষ্কার। ইসরায়েলি নাগরিকদের যারা হুমকি দেবে, তাদের কীভাবে খুঁজে বের করতে হয়, তা আমরা জানি। সেটি উত্তরে, দক্ষিণে কিংবা আরও দূরে হলেও আমরা তাদের খুঁজে পাব।
আইডিএফ জানায়, দক্ষিণ বৈরুতে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতারা বৈঠক করার সময় সেখানে হামলা চালানো হয়। ওই স্থানটি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ইসরায়েলি বাহিনী কয়েক দিন ধরেই লেবাননের বিভিন্ন স্থানে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে কাবু করতে তাদের বিভিন্ন আস্তানাকে নিশানা করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি ইসরায়েলের। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘সর্বশক্তি’ দিয়ে লড়াই করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েল লেবাননে হামলা জোরদার করার সপ্তাহখানেক আগে দেশটিতে পেজার এবং ওয়াকিটকিসহ সব তারহীন যন্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে লেবাননে কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়।
