মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে যেতে হলো যে কারণে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:১৯ এএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে বিদেশে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের মামলায় ঢাকার বিচারিক আদালতে রায় হয়েছিল গত বছরের আগস্টে। রায়ের সময় বিদেশে ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। গতকাল রবিবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে সাজার বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন চান। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, সাজার মেয়াদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কারাবিধি অনুযায়ী তাকে ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

এদিকে একই মামলায় সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমানের সাজা স্থগিত করেছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের আলোকে গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১০ ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, প্রদত্ত দন্ডাদেশ আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো। ২০১৮ সালে শফিক রেহমান যুক্তরাজ্যে যান। গত ১৮ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন। এ মামলায় ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার হয়ে কয়েক মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরেন মাহমুদুর রহমান। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে আসেন তিনি। তার হাজিরাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তার পক্ষে সাজার বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন চাওয়া হয়। এ মামলায় তাকে পলাতক দেখিয়ে বিচারকাজ ও রায় হয়। গতকাল তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেসবাহ।   

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের যে কোনো সময় বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় একত্র হয়ে যোগসাজশে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করে। এ মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ১৭ আগস্ট সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার মামলায় ঢাকার একটি আদালত শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনকে দন্ডবিধির পৃথক দুই ধারায় পাঁচ ও দুই বছর করে সাত বছর সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদ- দেন। দ-প্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, রিজভী আহমেদ সিজার ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। রায়ে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে আদেশ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত