এক শিক্ষকের হাজার অনিয়ম

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:১১ এএম

গাজীউল হক সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক। এককভাবেই খরচ করেন প্রতিষ্ঠানের টাকা। শিক্ষার্থীরা এত দিন ব্যাংকে মাসিক বেতন পরিশোধ করলেও এখন আর সেই সুযোগ নেই। নিজে যে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন, সেই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে বেতন-বইয়ের পরিবর্তে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বেতন দেওয়ার নিয়ম চালু করেছেন। বেতনও দিতে হয় নির্দিষ্ট লাইব্রেরিতে গিয়ে। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে স্কুলে যোগ দেওয়ার পর এ পর্যন্ত আর্থিক বিষয়ে কোনো অডিট করেননি তিনি। সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগেও অনিয়ম করেছেন। কর্তৃত্ব জাহির করতে নিয়োগ দিয়েছেন সাত ধরনের শিক্ষক। এখন তারাই পোস্টারিং করছেন তার বিরুদ্ধে।

প্রধান শিক্ষক নিজে বেতনের ৫০ শতাংশ টাকা বাড়িভাড়া বাবদ নিলেও স্কুলের বাকি স্থায়ী শিক্ষকদের বাড়িভাড়া দিচ্ছেন ২৫ শতাংশ হারে। নিয়োগের দুই বছর পর স্থায়ী করার থাকলেও আট বছর ধরে স্থায়ী হতে পারছেন না অনেক সহকারী শিক্ষক। একটি প্রতিষ্ঠানে সাধারণত স্থায়ী ও অস্থায়ী শিক্ষক থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন সাত ধরনের শিক্ষক। যেমন স্থায়ী সহকারী শিক্ষক, অস্থায়ী সহকারী শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক (খন্ডকালীন), সহকারী শিক্ষক (চুক্তিভিত্তিক), জুনিয়র শিক্ষক (অস্থায়ী), জুনিয়র শিক্ষক (খন্ডকালীন) ও জুনিয়র শিক্ষক (ব্লক)।

জুনিয়র শিক্ষক (অস্থায়ী) পূর্ণিমা দেব বলেন, ‘আমি ২০১৫ সালে খন্ডকালীন হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ২০১৭ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষা দিয়ে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেও এখনো স্থায়ী হইনি। অথচ নিয়োগের দুই বছর পর স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল। প্রধান শিক্ষক নিজে বেতনের ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া নিলেও অন্য শিক্ষকদের বেতনের ২৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়া হয়।’

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘বাড়িভাড়া বিষয়ে শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক। এ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। সম্প্রতি স্কুলের দেয়ালে দেয়ালে এই দাবিতে তারা পোস্টারও লাগিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রধান শিক্ষক গত ২৫ আগস্ট থেকে বিদ্যালয়ে আসছেন না। ফলে প্রশাসনিক কাজে সমস্যা হচ্ছে।’

চান্দগাঁও থানা শিক্ষা অফিসার জয়ন্ত বাড়ৈ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি কাজে আমি কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। পরে জেনেছি তিনি প্রায় এক মাস ধরে স্কুলে আসছেন না। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।’

গত সপ্তাহে নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ। স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ২৫ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত। তিনি স্কুলে আসছেন না।’

সহকারী প্রধান শিক্ষক তানজিনা চৌধুরী বলেন, ‘মোবাইল ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার তার বাসায় গিয়ে স্কুলের ১০ জন শিক্ষক দেখা করি।’

বেতন প্রদানের ডকুমেন্ট থাকে না অভিভাবকের কাছে সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক গাজীউল হকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ অনেক পুরনো। সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, আবদুচ ছালামের গাড়িচালক আবদুল জলিলের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে তিনি চাকরি দিয়েছেন স্কুলে। নিয়ম ভেঙে তাদের স্থায়ীও করেছেন। আবদুচ ছালাম ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিডিএ চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে জহিরুল আলম দোভাষ সিডিএ চেয়ারম্যান হলেও আবদুচ ছালামের প্রচ্ছন্ন প্রভাব ছিল প্রতিষ্ঠানে।

স্কুলটির দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিভাবক নুরুল আবছার খান বলেন, ‘আমার মেয়ে কেজি থেকেই এ প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে। আগে আমরা স্কুলের পাশেই কাপ্তাই রাস্তার মাথায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে মাসিক বেতন পরিশোধ করতাম। আমাদের বেতন-বই ছিল। কিন্তু এ বছর ওয়ান ব্যাংকের অ্যাপসে টাকা দিতে বলা হয়েছে। আর অ্যাপস রাখা হয়েছে স্কুলের বাইরে একটি লাইব্রেরিতে। প্রশ্ন হলো স্কুলের বেতন বাইরের লাইব্রেরিতে গিয়ে কেন দেবে? এই অ্যাপসের মাধ্যমে বেতন দিলে অভিভাবক কিংবা শিক্ষার্থীর কাছে ডকুমেন্ট থাকে না। একটি ভালো সিস্টেমকে প্রধান শিক্ষক নষ্ট করেছেন। আমরা অভিভাবকরা খুব ক্ষিপ্ত। এখন আবার এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি স্কুলে আসছেন না।’

স্কুলের একাধিক শিক্ষক জানান, এখন ওয়ান ব্যাংক চান্দগাঁও শাখায় অ্যাকাউন্ট করা হয়েছে। এটা স্কুল থেকে অনেক দূরে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার গেটে। ওই ব্যাংক থেকে গাজীউল হক ১১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। ওয়ান ব্যাংক থেকে সুবিধা নিতেই তিনি স্কুলের বেতন আদায়ের অ্যাকাউন্ট সেখানে করেছেন গত বছরের ৮ ডিসেম্বর।

অভিযোগের সত্যতা জানতে অভিভাবক পরিচয়ে বেতন দিতে এ প্রতিবেদক স্কুলের সামনের লাইব্রেরিতে (ফারুক লাইব্রেরি) যান। বেতন প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে লাইব্রেরির স্টাফ শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ফারুক স্যার তো পাশের স্কুলে (শিশুপ্রিয় কিন্ডারগার্টেন) ক্লাস নিচ্ছেন। তিনি এলে বেতন নেবেন।’

জানা গেছে, নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলটিতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। সব শ্রেণির শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন ৯০০ টাকা; আর ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের (৯৩ জন) বেতন ১ হাজার ২০০ টাকা। শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক পার হয়ে ওই লাইব্রেরিতে গিয়ে বেতন জমা দেয়।

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক তানজিনা হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসছেন না। অভিভাবকরা আমার কাছে এসে বিরক্ত করছেন প্রতিনিয়ত। একটি স্কুলের বেতন লাইব্রেরি কেন নেবে? বেতনের ডকুমেন্টও শিক্ষার্থীদের থাকছে না। এটা কেমন কথা?’

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক মোহরা শাখার ব্যবস্থাপক (গত সপ্তাহে বদলি হয়েছেন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা বেতন-বইয়ের মাধ্যমে পৃথক বুথে স্কুলের বেতন আদায় করতাম। কখনো সমস্যা হয়নি। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অন্য ব্যাংকে (ওয়ান ব্যাংক) অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করেন।’

ডকুমেন্ট কেন থাকে না, আর অ্যাপস কেন? সে বিষয়ে সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাব মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা শিবলু বড়ুয়া বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে অ্যাপসের (ওয়ালেট) মাধ্যমে বেতন পরিশোধের ব্যাপারে। এতে সরাসরি আমাদের অ্যাকাউন্টে বেতন জমা হয়ে যায়। আমরা ব্যাংক স্টেটমেন্ট স্কুলে পাঠালে স্কুল জানতে পারে কে বেতন দিয়েছে আর কে দেয়নি। এ কারণে শিক্ষার্থীর কাছে বেতন-সংক্রান্ত তথ্য থাকে না।’

অডিট হয় না ৭ বছর

গাজীউল হক প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর কোনো অডিট হয়নি। প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির (সিডিএ চেয়ারম্যান) কাছে অভিযোগ করা হলে কয়েক মাস আগে অডিট ফার্ম নিয়োগ করা হয়। সিডিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস (২ সেপ্টেম্বর অপসৃত) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার কাছে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ব্যাপারে অভিযোগ এসেছিল। কিন্তু অডিট রিপোর্ট ছাড়া কাউকে দোষী বলা যায় না দেখে আমি অডিট ফার্ম নিয়োগ করি। আমি চলে আসায় তা শেষ করতে পারিনি।’

অডিটের বিষয়ে স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত অডিট হলেও এরপর আর হয়নি। গত মাসে সিডিএ থেকে অডিট কমিটি এসে কাজ শুরু করলেও আমাদের কাউকে যুক্ত করা হয়নি। তিনি বাইরের লোক এনে ভাউচার রেডি করেছেন।’

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যুক্ত করা হয়নি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে স্কুলের কম্পিউটার অপারেটর আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রাউজানের কচুখাইন স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক বিশ^জিত নাথ দাশ ভাউচার তৈরিসহ অডিটের কাজগুলো করেছেন। আমাদের যুক্ত রাখা হয়নি।’ কচুখাইন স্কুলের শিক্ষক বিশ^জিত নাথ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ভাউচারসহ অডিটের সামগ্রিক কাজে সিডিএ গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সহায়তা করেছি। সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আমার সহযোগিতা চেয়েছেন বলে সাপোর্ট দিয়েছি।’

সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম

২০২৩ সালের ১ আগস্ট প্রকাশিত স্কুলের সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সরকারি নিয়োগ বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হতে হলে স্বীকৃত কোনো বিশ^বিদ্যালয়ের স্নাতক/স্নাতক (সম্মান)/স্নাতকোত্তর এবং বিএডধারী বা এনটিআরসিএর নিবন্ধনধারী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু এ পদে যাকে (তানজিনা চৌধুরী) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার ১০ বছরের অভিজ্ঞতার তথ্য ভুল বলে দাবি করেন একই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দা নিলুফা আকতার ও শাহীন সুলতানাসহ একাধিক শিক্ষক।

সৈয়দা নিলুফা আকতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে আমার ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার পরও আমার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি সিটি করপোরেশন স্কুলে খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন। ওখানকার স্থায়ী শিক্ষক ছিলেন না। তাহলে তার ১০ বছরের অভিজ্ঞতার সনদ ভুল।’

শাহীন সুলতানা বলেন, ‘আমি এই স্কুলের শিক্ষক হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা না হওয়ায় আবেদন করতে পারিনি। তাহলে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাকে কীভাবে দেওয়া হলো।’

জানা গেছে, তানজিনা চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত গোসাইলডাঙ্গা খান বাহাদুর আবদুল হক দোভাষ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর যোগ দেন। সেখানে তিনি ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তিনি কীভাবে সেখানে ছিলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের তখনকার প্রধান শিক্ষক ও বর্তমানে পোস্তারপাড় সিটি করপোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধুভূষণ পাল বলেন, ‘তানজিনা চৌধুরী সেখানে খ-কালীন শিক্ষক ছিলেন।’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহারের অফিস আদেশে তানজিনা চৌধুরীর যে বদলির আদেশ করা হয়েছিল, তাতে বর্তমান পদের স্থলে “মাসিক সর্বসাকল্যে বেতনে” কথাটি উল্লেখ আছে।

তানজিনা চৌধুরী বলেন, ‘আমি সিটি করপোরেশনে স্থায়ী শিক্ষক ছিলাম না। তবে এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আমি আবেদন করেছি, কর্তৃপক্ষ আমাকে পরীক্ষার জন্য আহ্বান করেছে। আমি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হয়েছি।’

চান্দগাঁও থানা শিক্ষা অফিসার জয়ন্ত বাড়ৈ বলেন, ‘সরকারি বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হতে হলে স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু এমপিওবিহীন, তাই হয়তো তা আমলে নেওয়া হয়নি। যিনি নিয়োগ পেয়েছেন তিনি পত্রিকায় দেওয়া বিজ্ঞাপনের বিধি লঙ্ঘনের কারণে এমপিওভুক্ত হতে পারবেন না।’

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

২০১৩ সালে সিডিএ থেকে প্রথমে ৫ কোটি ও পরে ২০১৮ সালে আরও ৪ কোটি টাকা দেওয়া হয় স্কুল ও কলেজ ভবন নির্মাণের জন্য। সিডিএর নিজস্ব প্রায় দেড় একর জায়গায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম এ প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়টির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের প্রায় এক মাস ধরে অনুপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে সিডিএর সচিব রবীন্দ্র চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’

সহকারী প্রধান শিক্ষক তানজিনা চৌধুরী স্কুলের ১০ জন শিক্ষক নিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষকের বাসায় যান। প্রধান শিক্ষক তাদের জানান, তিনি এক মাসের ছুটিতে আছেন। ছুটি শেষে যোগ দেবেন। ছুটির কোনো ডকুমেন্ট আছে কি না জানতে চাইলে তানজিনা চৌধুরী বলেন, ‘কোনো ডকুমেন্ট আমাদের কাছে নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গত সপ্তাহে সরেজমিনে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরগুলোও বন্ধ রয়েছে। তাই তার বক্তব্য জানা যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত