সড়কের পাশেই ময়লার ভাগাড়, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম

ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থায়ী জায়গা (ডাম্পিং স্টেশন) না থাকায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরের মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে বাসা-বাড়ি ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা। ফলে জায়গাটি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। চারিদিকে মশা-মাছির ভনভন আর দুর্গন্ধে পাশ দিয়ে চলাচল করা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। এছাড়া ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পুরো এলাকা দূষিত করছে। প্রতিদিন এ রাস্তায়  চলাচল করা শত শত মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়েন। এতে পরিবেশ দূষণসহ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত ময়লার স্তুপ সরানো ও একটি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোড় দাবি জানান স্থানীয়রা।

সরে জমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে ও সিএনজি স্ট্যান্ডের পাশেই ময়লার ভাগাড়। তার পাশেই অবস্থিত ওষুধ ও খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চার পাশেই ঘনবসতি। সেই রাস্তায় স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাসহ নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। এছাড়া বৃষ্টি হলে তো ভোগান্তি আরো বেড়ে যায় স্থানীয়দের।

ময়লার ভাগাড়ের পাশের কয়েকজন দোকানদার বলেন, আমাদের দোকানের পাশেই ময়লার স্তুপ। এটার দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমরা অতি দ্রুতই এর একটা প্রতিকার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা জামান বলেন, আমরা সবসময় এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। এক হাত দিয়ে নাক চেপে ধরে এই জায়গাটুকু পার হই। এই ময়লাগুলো যদি এখান থেকে সরানো হতো তাহলে আমাদের চলাচলে আর কষ্ট হতো না।

সিএনজি চালক জালাল মিয়া বলেন, এখানে সিএনজি স্ট্যান্ড হওয়ায় বাধ্য হয়ে ময়লার পাশেই আমাদের গাড়ি রাখতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া যাত্রীরাও এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে চায় না ফলে কম যাত্রী নিয়েই আমাদের গাড়ি ছাড়তে হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, খোলা জায়গায় ময়লা ফেললে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি মানুষেরও শারীরিকভাবে অনেক ক্ষতি হয়। ময়লা-আবর্জনার পঁচা দুর্গন্ধ নাক দিয়ে মানুষের পাকস্থলীতে গিয়ে নানা ধরনের সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। খোলা জায়গা থেকে মশা-মাছিও জন্মায়। তাই খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন বলেন, ময়লা ফেলার নির্ধারিত কোনো স্থান না থাকায় সড়কের পাশেই ময়লা-আবর্জনা ফেলছে লোকজন। এগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য আমরা নিচু খাস জায়গা খুজছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত