সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত নতুন এআই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে দুই টেক জায়ান্ট, মেটা প্ল্যাটফর্মস ও অ্যাপল। অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট এমনকি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানি ওপেনএআইসহ অন্তত একশরও বেশি কোম্পানি ইইউর এআই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেন্ডেন্ট।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি এমন অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে, অন্যতম শীর্ষ এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক। ইইউর এআই চুক্তিটি এক প্রকার স্বেচ্ছা অঙ্গীকার যেখান তিনটি কাজের মাধ্যমে নিরাপদ ও বিশ^স্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের চেষ্টা করা হবে। তিনটি কাজ হলো, এআই বিষয়ক সচেতনতার প্রচার, ঝুঁকিপূর্ণ এআই ব্যবস্থা শনাক্তকরণ এবং এআই গভর্নেন্স কৌশল গ্রহণ করা।
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হচ্ছে এমন এক প্রযুক্তি, যাকে নানামুখী কাজে লাগানো সম্ভব। তবে এর দ্রুত অগ্রগতিতে নানারকম ঝুঁকিও রয়েছে। তারই আলোকে, প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী এআইয়ের জন্য আইনি কাঠামো, এআই অ্যাক্ট গ্রহণ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন কোম্পানির জন্য আইনি কাঠামো দেওয়া এআই প্রবিধানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে চুক্তিপত্রে। ‘এ বাস্তবতায় এআই অফিস সব অংশগ্রহণকারীকে এআই আইনের কিছু মূল বিধান বাস্তবায়নের জন্য নিজ উদ্যোগেই এআই চুক্তির কাঠামোর মধ্যে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে, যেখানে লক্ষ্য থাকবে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকারের ঝুঁকি কমানোর জন্য কাজ করা।’
ইইউর নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অ্যাপল ও মেটার চলমান বিরোধের মধ্যেই উভয় টেক জায়ান্টের এই চুক্তি প্রত্যাখ্যানের খবর এলো। বছরের শুরু নাগাদ ইউরোপ অঞ্চলে নিজেদের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট আনতে গিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল মেটা। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের প্রশিক্ষণে ব্যবহারকারীদের তথ্যের অন্যায় ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের ফলে আইরিশ ডেটা প্রটেকশন কমিশনের দেওয়া রায়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল ফেসবুকের মালিক কোম্পানিটি।
এআই আইনের বিধিনিষেধ মানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও এখনই চুক্তিতে যোগদান করবে না বলে জানিয়েছে মেটা। ‘আমরা ইইউর সম্মিলিত নিয়মগুলোকে স্বাগত জানাই। তবে বর্তমানে এআই অ্যাক্টের অধীনে নিজেদের সম্মতিমূলক কাজের ওপর নজর দিচ্ছি। ভবিষ্যতে বা পরবর্তী পর্যায়ে এআই চুক্তিতে আমাদের যোগদানের বিষয়টি অস্বীকার করছি না।’ বলেছেন মেটার এক মুখপাত্র। ‘আমাদের এআইয়ের বিরাট সম্ভাবনাকেও হারানো উচিত নয়, যা ইউরোপে উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করতে পারে। অন্যথায় ইইউ একটি যুগান্তকারী সুযোগ হাতছাড়া করবে।’
