পাঁচ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মুক্তি পান তিনি। দুপুরের দিকে তার জামিন সংক্রান্ত আদেশের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে তা যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, মাহমুদুর রহমানকে গত রবিবার কারাগারে আনা হয়েছিল।
এদিকে কারামুক্তির খবর পেয়ে মহানগর বিএনপি নেতা রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পুসহ বিপুল সংখ্যক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের সামনে উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টা মামলায় আমার দেশ পত্রিকার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে জামিন দেয় আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামস জগলুল হোসেন তার আপিল গ্রহণ করে জামিন মঞ্জুর করেন। গত রবিবার আপিলের শর্তে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর আমার দেশ পত্রিকার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ পাঁচজনের পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন আসামি হলেন জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, রিজভী আহমেদ সিজার ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। আসামিদের একটি ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্য আরও একটি ধারায় দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন। গত ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয় এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। আদালত ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় এ মামলাটি করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান।
