দুর্গ শহরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৪৩ পিএম

প্রাচীন যুগে রাজা-বাদশাহরা থাকতেন প্রাচীর ঘেরা উঁচু দুর্গে, কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের অন্তরালে। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রকে বলা হয় দুর্গের শহর। এই শহরের কেন্দ্র হচ্ছে গোয়ালিয়র দুর্গ, মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর যার নাম দিয়েছিলেন হিন্দের মুক্তা। হিন্দু মহাসভার হুমকিকে মাথায় রেখে মাধবরাও সিন্ধিয়া স্টেডিয়ামকেই যেন দুর্গ বানিয়ে ফেলতে চাচ্ছে মধ্যপ্রদেশের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরই মধ্যে ম্যাচের দিন এবং পরের দিনের জন্য ভারতীয় আইনি প্রবিধানের ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে গোয়ালিয়রে। এর মাধ্যমে দাঙ্গা, বিক্ষোভ বা উসকানিমূলক কোনো আচরণ প্রতিরোধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদেশে সঙ্গে সঙ্গে যে কোনো ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেখানে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে, এই রকম একটি প্রচারণা চলছে গণমাধ্যমের একটি অংশে।

নিউ ইয়র্কেও জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সময়, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস সেখানে ছিলেন তখন প্লেনের সঙ্গে কালো কাপড়ে বাঁধা ব্যানারে ‘স্টপ ভায়োলেন্স অন বাংলাদেশ হিন্দুস’ লিখে আকাশে প্রচারণা চালানো হয়েছে। কানপুরের টেস্ট ম্যাচকে ঘিরে হিন্দু মহাসভার হুমকি থাকলেও সেখানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। স্টেডিয়াম এলাকা জুড়ে পুলিশ যানচলাচল সীমিত করেছে, প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর এবং ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন বসানো ছিল। চেন্নাইতে কানপুরের মতো না হলেও চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের প্রধান প্রবেশ ফটক এবং আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি। তবে গোয়ালিয়রে হিন্দু মহাসভা ম্যাচের দিন বন্ধ ডাকায় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে, যার ভোগান্তি সইতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। শহর থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত মাধব রাও সিন্ধিয়া স্টেডিয়াম। এখানেই হবে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি। স্টেডিয়ামের প্রায় ৩ কিলোমিটার আগে যানবাহন তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও ফেরার পথে এই দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে ফিরে এসে তারপর যানবাহন মিলছে। প্রচণ্ড গরমের ভেতর যা ভোগান্তিতে ফেলেছে সাংবাদিকদের।

শহরটির একটি দূর্গ থেকে মোশারফ হোসেনের ভুবনের লেন্সে বন্দি গোয়ালিয়র শহর

বাংলাদেশ দল গোয়ালিয়রে পা রাখার দিনেই মিছিল করেছে হিন্দু মহাসভা। কমলা পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশ মুর্দাবাদ স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশ দলকে ফিরে যাওয়ার দাবি তোলা হয় মিছিলে। বিক্ষোভকারীদের দলটি স্টেডিয়ামের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ পথিমধ্যে তাদের আটকে দেয়। মিছিল থেকে ২০ জনকে আটক করে পুলিশ, পরে তাদের শান্তিভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভারতীয় আইনি ব্যবস্থার ১৬৩ ধারা জারি করেছেন গোয়ালিয়রের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর রুচিকা চৌহান। এর মাধ্যমে গোয়ালিয়র জেলার ভেতর কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান কিংবা এমন কোনো মন্তব্য লেখা ব্যানার, পোস্টার, কাটআউট প্রদর্শন করেন তাহলে তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। ৬ তারিখে হিন্দু মহাসভার ডাকা ‘বন্ধ’ যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে সে জন্য শহর জুড়ে ১৬০০ পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে দাহ্য পদার্থ, ধারালো বা ভোঁতা যে কোনো দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বহন। পাঁচ জনের বেশি মানুষ একত্র হতেও দেবে না পুলিশ। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় গোয়ালিয়রের সহকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টি এন সিংয়ের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘এই ব্যাপারগুলো অন্তত গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর। আমরা খেলোয়াড়দের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেষ্ট এবং সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত