গুলি লাগলে লুটিয়ে পড়েন, পরে পিটিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয় পা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ০১:০১ এএম

জীবিকার তাগিতে মাদ্রাসার লেখাপড়া ছেড়ে শরিফ উদ্দিন (১৭) কুমিল্লা শহরে রিকশা চালানো শুরু করেন। থাকতেন শহরের কোটবাড়ী এলাকায়। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। মিছিলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করলে একটি গুলি এসে লাগে শরিফের ডান হাতে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা অতর্কিত হামলা করে রড দিয়ে পিটিয়ে পা থেঁতলে দেয়। এসময় তাদের আঘাতে হাত ও পিঠও জখম হয়। ডান হাতে গুলি আর বাম পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে এখন বিছানায় কাতরাচ্ছেন রিকশাচালক শরীফ উদ্দিন। চিকিৎসার অভাবে বিছানায় দিন কাটছে তার।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের সানিয়াজান নদীর তীরে অবস্থিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫২ নম্বর বাড়িতে এখন ঠাঁই হয়েছে শরীফের পরিবারের। সেখানে শরীফ তার মা আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে বাস করেন। বড় ভাই হামজার রোজগারের টাকায় চলে আনোয়ারা বেগমের সংসার। কিন্তু আয়হীন সংসার চালানোই কষ্ট, সেখানে ছেলের চিকিৎসা করাবেন কীভাবে তা ভাবতেই চোখে অন্ধকার দেখছেন মা আনোয়ারা বেগম।

আহত শরীফ উদ্দিন জানান, জীবিকার তাগিদে মাদ্রাসা ছেড়ে তার বড় ভাই হামজার সঙ্গে কুমিল্লা শহরে রিকশা চালাতেন। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে আওয়ামী ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি বুলেট তার ডান হাতে বিদ্ধ হয়। এতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি রড দিয়ে পিটিয়ে পা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।

শরীফ আরও জানান, সন্ত্রাসীদের রডের আঘাতে হাত, পিঠের মাংস থেঁতলে গেছে এবং বাম পায়ের হাড় ফেটে গেছে।

শরীফের মা আনোয়ারা বেগম জানান, কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ডাক্তার শরিফের পা ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। কিন্তু তারা তার হাতের বুলেট বের করেনি। ওই অবস্থাতেই তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। হাতে যেটুকু টাকা জমা ছিল, তা ওষুধ কিনতেই শেষ হয়ে গেছে। এখন বিনা চিকিৎসার বাড়ির বিছানায় পড়ে রয়েছে শরীফ।

বাউরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মামুন হোসেন সরকার দিশেহারা পরিবারটির দিকে নজর দিতে সরকার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তিনি বলেন, সরকার সহায়তা করলে শরিফ সুস্থ হয়ে উঠবে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত