টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের দুই উপজেলা প্লাবিত

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:০৮ পিএম

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাটে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। নেতাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে আকস্মিক বন্যায় হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়া উপজেলায় কমপক্ষে ৮০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ।

হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়া উপজেলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার বিকেল থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও শনিবার দুপুর থেকে আবার বৃষ্টি শুরু বাড়তে শুরু করে। এই দুই উপজেলায় আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের রোপণকৃত আমন ফসল। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। আতংকে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তলিয়ে গেছে মাছের খামার।

আজ শনিবার হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া, গাজিরভিটা, ধুরাইল ও সদর ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় পানি বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া হালুয়াঘাট পৌর শহরের মিশন স্কুল রোড়, হালুয়াঘাট-নালিতাবাড়ি সড়কের পাগলপাড়া গ্রাম, জয়িতা মহিলা মার্কেট, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খাদ্য গুদাম ও থানাসহ বিভিন্ন জায়গা তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

হালুয়াঘাটের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুনাব আলী বলেন, তার বাড়ির সবকিছুই পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে সেন্টএন্ড্রুজ উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও সহায়তা পাননি।

ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনও সহায়তা পাওয়া যায়নি।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদ আলী জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রাম বন্যাকবলিত। উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে পুকুর এবং মাটির রাস্তা। বাড়িতে রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। খাবার পানির সংকটে মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে প্রশাসনসহ স্থানীয় নেতারা দায়িত্ব পালন করছেন।

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত শারমিন জানান, ধোবাউড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম এখন বন্যাকবলিত। বাড়িঘরে পানি ওঠে যাওয়ায় স্কুলসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিচ্ছেন মানুষ। দুই দিনের টানা বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক পরিবার।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, হঠাৎ ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুই উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য সরকারিভাবে ১০ মেট্রিক টন করে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করে সরকারি ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত