মন্ত্রী ও সচিবের নামে এখনো ‘উপরি’ তোলেন ফেনী সদর উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার। জায়গা-জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ যেকোনো কিছু রেজিস্ট্রেশন করতে হলে সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও বাড়তি অর্থ দিতে হয় গ্রাহককে। তা না হলে জমি কেনাবেচায় সকলকে পোহাতে হয় দুর্ভোগ। রেজিস্ট্রেশনের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফেনী সদর হাসপাতালের পেছনে সুলতানপুর মৌজায় সোয়া চার শতক জায়গায় হস্তান্তর করেন আহাছানুল। রিয়াজ উদ্দীন পাওয়ার গ্রহণ করেন নির্ধারিত ফির বাইরে আরও ২০ হাজার টাকা বেশি দিয়ে। কেন ২০ হাজার টাকা বেশি দিতে হবে প্রশ্ন করা হলে সাব রেজিস্টার বোরহান জানান, মন্ত্রী-সচিবদের উপরি দিতে হয়। এ সময় তার সহকারী দুই জন বলেন, মন্ত্রী-সচিবদের উপরি কি স্যারের পকেট থেকে দেবে। মন্ত্রী তো এখন নাই? এর উত্তরে সহকারী দুই জন বলেন, চেয়ার কি ফাঁকা!
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দলিল লেখকরা আগে সাব রেজিস্ট্রারের উপরির ফয়সালা করেন। সেই ফয়সালা শেষ হলে তারপর জমি রেজিস্ট্রশন হয়। তা না হলে নানা অজুহাতে তাদের ঘোরানো হয়।
এ প্রসঙ্গে সাব রেজিস্ট্রার বোরহানকে মোবাইল ফোনে কল করে সাড়া পাওয়া যায়নি। ম্যাসেজ দিয়ে জানতে চাইলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করলে প্রথমে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে এজলাসের পাশেই বসতে বলেন প্রতিবেদককে। এ সময় তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তার ইশারায় অফিসের কর্মচারী, দলিল লেখকসহ ১০/১৫ জনের একটি দল তেড়ে এসে এ প্রতিবেদককে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে বের করে দেন। তারা বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে সাংবাদিকরা এসে রেজিস্ট্রারের সময় ব্যয় করছে।
জানা গেছে, প্রতিটা রেজিস্ট্রিতে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ২০-৫০ হাজার টাকাও উপরি নেন সাব রেজিস্টার বোরহান। এ ছাড়া মামলা মোকদ্দমা আছে এরকম জায়গাও রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ আছে বোরহানের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক জায়গার মালিককে দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে ধরে এনে রেজিস্ট্রি করানোর মতো অনিয়মও তার রয়েছে। সবগুলোতে তিন ও পাঁচ লাখ টাকাও উপরি নেন বোরহান।
ভ্রমণের জন্য এক টুকরো স্বর্গ সিলেট
খুনিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ ৭ সংস্কার প্রস্তাব চরমোনাই পীরের