ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে: নাগরিক কমিটি

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৫৭ পিএম

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

অভ্যুত্থানের দুই মাস পার হলেও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শহীদ পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন না হওয়া, জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়ার মন্থর গতি, দ্রব্যমূল্যের গতি উর্ধ্বমূখী থাকা, শ্রমিক আন্দোলনে গুলি চালানো, সংবিধান পরিবর্তন না করাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। রবিবার 'ঢাকা রাইজিং’ নামে শহীদ ও আহত পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। 

সমাবেশে উত্তরাঞ্চলে বন্যায় সরকারের তৎপরতার সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বন্যার্তদের দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ সরবরাহের দাবি জানান। একই সাথে বিদ্যমান শ্রমিক আন্দোলনে গুলি চালানোর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে, সে কারণেই শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছে। শ্রমিকদের বেতনের ব্যবস্থা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিক হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হওয়া অনেকেই এখনো হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। কিন্তু অন্য দিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া মন্থর গতিতে এগুচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের গতি এখনো উর্ধ্বমূখী, ফলে সাধারণ মানুষ তার দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরকারকে এই গতিতে লাগাম টানার পরামর্শ দেন তিনি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনো সময় আছে, জনগণ, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের পালস (মন) বোঝার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল টাকার বিনিময়ে জঘন্যভাবে শহীদদের কোরবানির পশুর হাটের মতো কেনাবেচা করছে। সেসব রাজনীতিবিদকে আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার নামে যারা রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য ঘৃণ্য-জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়েছেন, আপনাদের চাপিয়ে দেওয়া এই জঘন্য কৃষ্টি-কালচার অতি সত্বর পরিত্যাগ না করলে তরুণসমাজ আপনাদের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলবে।

সীমান্তে হত্যা বন্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা সিমান্তে আর কোনো হত্যাকাণ্ড দেখতে চাই না। অচিরেই এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে সরকারকে। বর্তমান সরকার কোনোভাবেই ভারতের সঙ্গে নতজানু নীতিতে থাকতে পারে না। এই সরকারকে ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস রাখতে হবে। এখন পর্যন্ত গণহত্যার বিচার শুরু হয়নি। সরকারের কাছে আহ্বান, যারা গণহত্যা করেছে, গুলি করেছে, যারা হুকুম দিয়েছে, আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যেকের যেন শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

সমাবেশে নাগরিক কমিটির সদস্য ও মায়ের ডাকের আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি গুমের রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানিয়ে বলেন, বিচার বহির্ভূত সকল হত্যাকান্ডকে এই রাষ্ট্র থেকে চিরতরে বিদায় করতে হবে।

রবিবার থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটি ঢাকায় ‘ঢাকা রাইজিং’ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘আগামীকাল (আজ রোববার) আন্দোলনের বাতিঘর যাত্রাবাড়ীতে আমাদের “ঢাকা রাইজিং” কর্মসূচি রয়েছে। বেলা ৪টায় নূর কমিউনিটি সেন্টারে এই কর্মসূচি হবে। সেখানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।’ 

সদস্যসচিব আখতার জানান, পর্যায়ক্রমে অন্য স্থানগুলোতেও তারা ‘ঢাকা রাইজিং’ কর্মসূচি পালন করবেন। এ ছাড়া আগামী সোমবার বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ছয় বছর পূর্ণ হচ্ছে। ওইদিন বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর পলাশী মোড়ে আবরার ফাহাদের স্মৃতির উদ্দেশে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আখতার হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত