রেনুকে পিটিয়ে হত্যায় একজনের ফাঁসি চারজনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৫৮ এএম

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় তাসলিমা বেগম ওরফে রেনুকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন আট আসামি।

গতকাল বুধবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় দেন। আদালত রায়ে আসামি ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রিয়া বেগম ময়না, আবুল কালাম আজাদ, কামাল হোসেন ও আসাদুল ইসলাম।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের সমুদয় অর্থ থেকে ২০ হাজার টাকা করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে অবশিষ্ট টাকা রেনুর দুই সন্তানকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মামলার রায় শুনতে গতকাল সংশ্লিষ্ট আদালতে আসে রেনুর দুই শিশুসন্তান, রেনুর বোন নাজমুন নাহার এবং ভাগ্নে নাসির উদ্দিন টিটু। মামলার রায়ে সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারা।

মামলার বাদী নাসির উদ্দিন টিটু জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করবেন। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও ওই দিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ৯ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন বিচারক। 

২০১৯ সালের ২০ জুলাই উত্তর বাড্ডার একটি স্কুলে সন্তানদের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন রেনু। তখন শিশু অপহরণের একটি গুজব চলছিল দেশে। রেনুকে অপহরণকারী সন্দেহ করে স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে স্কুল গেটের সামনে গণপিটুনির শিকার হন রেনু। এতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে অজ্ঞাতদের আসামি করে বাড্ডা থানায় একটি মামলা করেন নাসির উদ্দিন টিটু। তখন পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পড়াশুনা শেষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন রেনু। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পারিবারিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে একা থাকতেন তিনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল হক ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ১৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২১ সালের ১ এপ্রিল ১৩ আসামির  বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারকালে আদালত ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। রেনু হত্যা মামলায় ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই শিশুর বিরুদ্ধে করা মামলাটি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৭ (শিশু আদালত)-এ বিচারাধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত