দেড় বছর বয়সের শিশু আয়ান ইসলাম বাবার অপেক্ষায়। সে জানে তার বাবা কমল মিয়া বাজারে গিয়েছেন। বাড়ি ফিরবেন চকলেট নিয়ে। এদিকে নিহত কমলের বাবা মো. মফিজ উদ্দিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মো. মফিজ উদ্দিন বলেন,'গত সোমবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রানা মিয়া আমাদের বাড়িতে এসে আমার ছেলে কমলকে ডাকতে শুরু করে। কমলকে বাড়িতে না পেয়ে রানা চলে যায় এলাকার ঘাগড়াপাড়া মোড়ে। সন্ধ্যায় ঘাগড়াপাড়া মোড়ে কমলকে পেয়ে ডাক দেয়। পরে রানা মিয়া তার বাড়ির পাশের একটি ঘরে নিয়ে সেখানে কমলকে মেরে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। এর ঘণ্টা দেড়েক পরেই রানা আবার আমার বাড়িতে এসে বলে কমল পুকুরে পরে গেছে। আমরা দৌঁড়ে গিয়ে পুকুরে নেমে কমলকে পানি থেকে উঠাই। এ সময় দেখি আমার পুতের (ছেলের) নাক-মুখ-কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তখন রানা মিয়াকে বলি-পানিতে পড়েছে দেখেও তুই কমলকে উঠালি না কেন? এটা বলতেই রানা দৌঁড়ে চলে যায়। আমার ছেলেকে ওরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ছেলে হত্যার বিচারের জন্য ঘটনার দিন পুলিশের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলেও রাখেনি পুলিশ,পরে সেনাবাহিনী ও ইউএনওর কাছেও গিয়েছি। অবশেষে বুধবার রাতে পুলিশ অভিযোগ রাখলেও তাদের কোনো তৎপরতা নেই। এখন আমি কোথায় গেলে,কার কাছে গেলে ছেলে হত্যার বিচার পাব?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশাসন গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. কমল মিয়া (২৬) একজন পোলট্রি ব্যবসায়ী। (৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের মাঝিয়াকান্দি গ্রামের অভিযুক্ত রানা মিয়ার বাড়ি পাশে এই ঘটনা ঘটে। রানা মিয়া ওই গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, গত সোমবার রাতে কমলকে পুকুর থেকে উঠিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষাণা করে। এ সময় কমলের নাক-মুখ-কান দিয়ে অনেক রক্তকরণ হয়। মুখের দুই পাশে ছিল আঘাতের চিহ্ন।
তবে পুলিশ বলছে, 'প্রাথমিক সুরতহালে মরদেহে হত্যা প্রমাণিত হওয়ার মতো তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবার হত্যার অভিযোগ করায় লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া এখনই পরিষ্কার করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত রানা মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় রয়েছে ৭টি মাদক মামলা।
কমলের ভাই কাউসার ও প্রতিবেশী শেখ মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, 'রানা একজন মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতা। কমলদের বাড়ির পাশে একটি ঘরে মাদক সেবনের আড্ডা জমাতো রানা। গত ছয় মাস আগে রানা সেখানে মাদক সেবন করলে কমল বাঁধা দেয়। এ নিয়ে তখন কমল ও রানার মধ্যে হাতহাতি হয়। পরে রানা কমলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। ওই ঘটনার জের ধরেই রানা কমলকে মেরে পুকুরে ফেলে দেয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত রানা মিয়া ও তার পরিবারের একাধিক নাম্বারে বারবার কল দিলে সবকটি নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রানা মিয়া পলাতক রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দ্রুত নিয়ে আসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
টিসিবির কার্ড নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৮
ছুটি কাটাতে কুয়াকাটা, ফেরার পথে শেষ দুই পরিবার
এক পিস ইলিশ ২০০!
বিষাদের সুর ছড়িয়ে টেনিসকে বিদায় নাদালের
বাড়ি ফেরা হলো না ব্যবসায়ীর, সড়কের পাশে মিলল লাশ
কমলাপুর স্টেশনের পথশিশুকে কুমিল্লায় নিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ