হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আজ এমন উজ্জ্বল আবহেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১৪১তম ম্যাচটা খেলতে নামবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যা দেশের হয়েও তার শেষ টি-টোয়েন্টি হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা সাবেক এই অধিনায়কের জন্যই আজ ভারতের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটা জিততে চাইবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
প্রথম দুই ম্যাচ হারায় অবশ্য সিরিজ আগেই হেরে গেছে বাংলাদেশ দল। তবু নিয়মরক্ষার ম্যাচে একটা জয় হতে পারে রিয়াদের জন্য দলের বিদায়ী উপহার। তিনি নিজেও চাইবেন দারুণ কিছু করে এই সংস্করণকে বিদায় বলতে। ২০২১ সালে হারারেতে যেমন অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেছিলেন। আজ হায়দরাবাদে এমন কিছু করতে পারলে তো দারুণ ব্যাপারই হবে।
আজ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামবেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চলা এই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত থাকলেও তার সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স নিয়ে উঠেছে সমালোচনা। বিশেষ করে আগের ম্যাচে ৩৯ বলে করা ৪১ রানের মন্থর ইনিংসকে কেউ কেউ ‘মাস্টারক্লাস’ বলে অভিহিত করলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়- এটি কি সত্যিকারের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের উদাহরণ?
মাহমুদউল্লাহর এই ইনিংসটি আসে এমন একটি পরিস্থিতিতে যখন দলের প্রয়োজন ছিল দ্রুত রান তোলা। কিন্তু ১০৫.১২ স্ট্রাইক রেটে করা তার ইনিংসটি দলের জন্য কতটা উপকারী ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। টি-টোয়েন্টির মূল ধাঁচ হলো পাওয়ার হিটিং ও দ্রুত রান তোলা, যেখানে মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের থেকে আশা করা হয় আক্রমণাত্মক খেলার। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ অনেক সময়ই নিজস্ব মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণে সমালোচিত হয়েছেন, বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে তার ইনিংসগুলোতে এই প্রবণতা দেখা গেছে।
এর আগেও এমন মন্থর ব্যাটিংয়ের উদাহরণ রয়েছে। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছিল খুবই হতাশাজনক। সেখানে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্লো ইনিংস খেলেন, যা দলের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ করেছিল। সাম্প্রতিক এশিয়া কাপেও তার ব্যাটিংয়ে গতি ছিল না, যা বাংলাদেশের দ্রুত রান তোলার চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
তবে, মাহমুদউল্লাহর অবদান একেবারে অবহেলা করার মতো নয়। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার শেষ ওভারের বাউন্ডারি মারার মতো কিছু মুহূর্ত তাকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে। একইভাবে ২০১৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ঝোড়ো ইনিংস দলকে বড় স্কোর এনে দিয়েছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে মন্থর ব্যাটিং তাকে সমর্থকদের সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ইনিংস রয়েছে, তবে স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে ১৩০+ স্ট্রাইক রেটে ইনিংসের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তিনি সাধারণত মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন, যেখানে স্ট্রাইক রেট ১৩০ এর বেশি হওয়া টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনেক সময় দলীয় প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে।
শেষ ম্যাচ বলে হায়দরাবাদের বাংলাদেশের মূল চরিত্র রিয়াদই। তাই তার অনুশীলন দেখার জন্য উদগ্রীব ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। কিন্তু কাল ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল বলে তিনি মাঠেই আসেননি। হোটেলেই দিনটা কাটিয়েছেন না। মাঠে যারা এলেন, তারাও ঠিকমতো অনুশীলনটা করতে পারেননি। বৃষ্টির কারণে তিনবার উইকেট ঢাকা হয়েছিল কাভারে।
আজকের বিদায়ী ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ কি সেই পুরোনো ছন্দ ধরে রেখে আরেকটি মন্থর ইনিংস খেলবেন, নাকি সত্যিকারের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং উপহার দিয়ে বিদায় নেবেন? তার ভক্তদের জন্য এই প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা শুধু তার ক্যারিয়ারের ইতি নয়, বরং তার খেলার শেষ ছাপও হয়ে থাকবে।
জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম লাল কার্ড ফন ডাইকের
ভারত সিরিজ সবসময়ই ধৈর্যধারণের পরীক্ষা
অধিনায়ক রোহিতের সহকারী এবার বুমরা
বিপিএল যখন 'মাস্টার্স লিগ' হয়ে যায়