বেরোবির সম্মাননা প্রত্যাখ্যান উপদেষ্টা নাহিদের

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৪৪ পিএম

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সম্মাননা স্মারক প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শনিবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষে শিক্ষার্থীদের এক দাবির জবাবে তিনি তার সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক উদ্বোধনের পর এক আলোচনাসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এবং অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ সময়ে অন্যান্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায় এবং কলা অনুষদের ডিন ড. শফিকুর রহমানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা কমলেশ চন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করেন- তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি যার সম্পাদক আবু সাঈদ হত্যার আসামি। সেইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। এ সময় ড. শফিকুর রহমানের কলাম নিয়ে আপত্তি জানায় শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী রাইসুল ফারিদ বলেন, আপনি বলেছেন প্রথমে আমাদের কাঠামো ভাঙ্গতে হবে। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যারা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনীতি দালালি, দোসরী করেছে সেই কাঠামো এখনও বলবৎ আছে। স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, এখানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন রয়েছেন যিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি এবং সেই পরিষদের সেক্রেটারি ছিলেন মশিউর। যে কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন মশিউরের মতো কলঙ্কিত শিক্ষক (আবু সাঈদের হত্যা মামলার আসামি), আজকে সেই কমিটির সভাপতিকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হচ্ছে। 

দ্বিতীয়ত কলা অনুষদের ডিন ড. শফিকুর রহমান রয়েছেন যিনি ১৩ আগস্ট একটি কলাম লিখেছেন। যেখানে একটি লাইনে লিখেছিলেন, 'আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পরও পরিস্থিতি সামলানোর পর্যায়ে ছিল’। আমরা শিক্ষার্থীরা জানতে চাই, আবু সাঈদের প্রাণের বিনিময়েও এখানে কি সামলানোর কথা তিনি বুঝিয়েছেন? এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। 

তিনি আরো বলেন, আমরা যখন দেখতে পাই যে, আমাদের সামনে যারা স্বৈরাচারী শাসকের দোসরী করেছে তাদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হচ্ছে। আমরা এটা মানতে পারি না। 

এর জবাবে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি আগে এই বিষয়টি জানতাম না। যেহেতু আপনারা অভিযোগ করলেন- এই মঞ্চ থেকে আওয়ামী লীগ এবং স্বৈরাচারের দোসরকে স্মারক সম্মাননা দেয়া হয়েছে। ফলে একই মঞ্চ থেকে আমাকে যে সম্মাননাটি দেওয়া হয়েছে সেটি আমি গ্রহণ করছি না।

তিনি আরো বলেন, হয়তো একদিন ফ্যাসিবাদমুক্ত এই বেরোবিতে আসব এবং আপনাদের সকল দাবি পূরণের সক্ষমতা নিয়ে দাঁড়াব। সেদিনই হয়তো প্রকৃত সম্মাননা গ্রহণ করব।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. শফিকুর রহমান বলেন, আমার কলামের শিরোনাম ছিল আবু সাঈদ যখন রাজনীতিবিদদের শিক্ষক। তারপর শুধুমাত্র একটি লাইন ধরে আঙুল তোলা হচ্ছে। আমি উনার (নাহিদ ইসলাম) সাথে আমাকে দেয়া সম্মাননা স্মারক সবার প্রতি সম্মান জানিয়ে সারেন্ডার করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, যারা হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার সাথে জড়িত তাদের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তথ্য তুলে এনে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা হবে। এজন্য একটু সময় প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত