সাইকোলজির একটি বিশেষ বিভাগ হচ্ছে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি। একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মানসিক সমস্যা নিয়ে কাজ করেন। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা মূলত মানসিক সমস্যাগ্রস্ত রোগীর সঙ্গে কথা বলে তার সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেন। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখে সাইকোলজিক্যাল কনসালটেন্সি সেবাও দিয়ে থাকেন।
কাজের ধরন : কজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের মূল কাজ হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানির পক্ষ থেকে অফিশিয়ালি কিংবা মেডিকেলের পক্ষে মানসিক সমস্যার রোগীদের দেখাশোনা ও তাদের সমস্যার সমাধান করা। সঠিক রোগ সম্পর্কে জানা, রোগীদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করা, যেকোনো রোগীর সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক স্থাপন করা। রোগী দেখা ও সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান দেওয়া। মানসিক রোগ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করা। সাইকোলজিস্টের দেওয়া ও ট্রিটমেন্টের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় অন্যান্য ফিজিশিয়ানদের সাহায্য নেওয়া।
পেশা হিসেবে : ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে পেশা শুরুর আগে ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট, হিস্টোটেক, মেন্টাল থেরাপিস্ট অথবা পার্সোনাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া যাবে। হেড অফ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হওয়ার আগে আরও অন্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।
যা জানতে হবে : হাই অ্যাকুইটি ইথিওলজিস ও কমপ্লেক্সিটিস সম্পর্কে দক্ষতা থাকা। রিডিউস অ্যাম্পিটিশন জানা। ক্লিনিক্যাল স্যাটিসফেকশন, সাইকোলজি ও মেডিকেল প্রসিডিউরে দক্ষ থাকা। মেডিকেল ফ্যাকাল্টির অধীনে ইন্টারডিসিপ্লিনারি টিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল কনসালটেন্সি মেথড, ট্রিটমেন্ট স্ট্র্যাটেজি ও রোগের গবেষণা ও অ্যানালাইসিস করে সেগুলো ডায়াগনাইজ করার গুণও দরকার। জেনারেল ট্রিটমেন্ট, মেডিটেক মেন্টাল সিস্টেম, ট্রমা স্কোপ এবং লোকাল টেনেন্স সম্পর্কে জানা। ভিন্ন ভিন্ন হেলথ কেয়ার প্যাকেজের ওপর জানাশোনা প্রয়োজন।
একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার তৈরি আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে, যদি বায়োলজি, হিউম্যান বিহেভিয়ার অথবা মেডিকেল ট্রিটমেন্টের ওপর বেশ কিছু সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারেন। বর্তমানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের জন্য সার্টিফিকেশন কোর্সের গুরুত্ব অনেক বেশি, যে বিষয়গুলো জানা জরুরি তাহলো- ১. বায়োলজিক্যাল বেইজেস অব বিহেভিয়ার ২. সার্টিফাইড অ্যাকাডেমিক সাইকোলজি ৩. কগনিটিভ অ্যাফেক্টিভ বেইজেস অব বিহেভিয়ার ৪. গ্রোথ অ্যান্ড লাইফ স্প্যান ডেভেলপমেন্ট ৫. অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ডায়াগোনাইসিস ৬. ট্রিটমেন্ট, ইন্টারভেনশন, প্রিভেনশন অ্যান্ড সুপারভিশন ৭. রিসার্চ, মেথডস অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস ৮. ইথিক্যাল, লজিক্যাল অ্যান্ড প্রফেশনাল ইস্যু।
শিক্ষাগত যোগ্যতা : মেডিসিন, প্রি মেড প্রোগ্রাম, কেমিস্ট্রি, সাইকোলজি, বায়োলজি, ফিজিক্স অথবা ভলানটিয়ারিং-এর ওপর কমপক্ষে দুই থেকে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। তারপর, মেডিকেল স্কুল অথবা ইউনিভার্সিটি থেকে বিভিন্ন ধরনের সাইকোলজির ওপর স্নাতোকত্তর ডিগ্রি অর্জন করা যায়। চাইলে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের ক্যাটাগরিতে পিএইচডি ডিগ্রিও নিতে পারেন। ক্লিনিক্যাল ট্রেইনিং কমপ্লিট করে বিভিন্ন লাইসেন্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে লাইসেন্স গ্রহণ করে রোগী দেখতে পারবেন।
কাজের অভিজ্ঞতা : একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে কাজের আগে মেডিকেল প্রোগ্রামিং, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, সাইকোলজি, মেডিকেল রিসার্চ ও অ্যানালাইসিসসহ স্বাস্থ্য খাতের সাইকোলজি বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব বিষয়ের ওপর কমপক্ষে ২ থেকে ৭ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।
আয়রোজগার : ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে আপনার বাৎসরিক বেতন এন্ট্রি লেভেল ও সিনিয়র লেভেলে ভিন্ন ভিন্ন হবে। এন্ট্রি লেভেলের একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের দেশে বেতন হয় সর্বনিম্ন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সিনিয়র লেভেলের একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের বেতন হয় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।
