এক গুলিতে তছনছ রুহুল আমিনের পরিবার

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৪, ০২:৩৯ এএম

অভাবের সংসারে স্বামীর সামান্য আয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে দিন চলে যেত। তিনিই ছিলেন উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। একটি গুলিতে তছনছ হয়ে গেল আমাদের পরিবার। এখন আর সংসার চলছেনা। বাসা ভাড়া দিতে পারছিনা, দিন কাটাচ্ছি অনাহারে। অথচ স্বামীর চিকিৎসার জন্য দরকার লাখ লাখ টাকা। কোথায় পাব এত টাকা। চিকিৎসা করাতে না পারলে তার এক পা কেটে ফেলতে হবে। কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে আহত নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করা রুহুল আমিনের স্ত্রী পারুল বেগম।

আহত রুহুল আমিন সোনারগাঁ থানার নোয়াপুর ইউনিয়নের লাদুরচর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তার সংসারে স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে স্থানীয় কলেজের দশম শ্রেণিতে আর ছোট ছেলে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

আহত রহুল আমিন বলেন, আমার বড় ছেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। গত ২০ জুলাই বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলার খবর পেয়ে আমি ছেলেকে খুঁজতে বের হই। কাঁচপুর পৌঁছা মাত্রই আমার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে একটি গুলি লাগে। গুলিতে হাড়  ভেঙে যায়। আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার আশপাশে কেউ নাই। নিস্তব্ধ নিরবতা মহাসড়কে। নিজে কোথাও যাওয়ার মতো শক্তি ছিল না। এমন সময় একজন ভ্যান চালক এসে আমাকে তার ভ্যানে তুলে সাইনবোর্ডের একটা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কোনো সিট পাইনি। তাই গত দুমাস ধরে বাসা থেকে গিয়ে ডাক্তার  দেখাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বাসা থেকে হাসপাতালে যাওয়া আমার জন্য খুব কষ্টের।

তিনি আরও বলেন, এখন হাসপাতালে যাওয়ার গাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা করতে পারছি না। প্রতি সপ্তাহে ১ বার ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে যেতে হয়। বিএনপি পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছিলাম, যা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামের কয়েকজন লোক একদিন এসে কিছু বাজার করে দিয়ে গেছিল। আর কেউ আমার খোঁজ নিচ্ছে না। অর্থ না থাকায় চিকিৎসার অভাবে বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছি।

কান্না জড়িত কণ্ঠে বড় ছেলে রনি বলেন, আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে  গেছিলাম। আমাকে খুঁজতেই বাবা সেখানে গিয়েছিল। তখনই গুলি বিদ্ধ হন তিনি। চিকিৎসার অভাবে বাবার পা  কেটে ফেলা হলে আমাদের পরিবারে দুর্দশা নেমে আসবে। হয়তো বন্ধ করে দিতে হবে আমার পড়াশোনা। ভেঙে যাবে আমার সব স্বপ্ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত