যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৪, ০২:৪০ এএম

সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। এতে মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী। প্রতিকার চেয়েও ফল মিলছে না। প্রশাসন থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি কেউই এগিয়ে আসছে না দুর্ভোগ কমাতে। উল্টো প্রতিদিন ময়লার স্তূপে ভরে যাচ্ছে পৌর শহরের পথ-প্রান্তর। দুই মাস ধরে এমন অচল অবস্থা বিরাজ করছে ফেনীর সোনাগাজী পৌর শহরে।

স্থানীয়দের দাবি, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন পালিয়ে ভারতে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর এমন অচলাবস্থার তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে গঠিত হওয়ার পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ঘোষিত হলেও গ্যাস ও বর্জ্য অপসারণের নির্ধারিত স্থান তৈরি করা হয়নি। পৌরসভা ময়লা-আবর্জনা মুক্ত রাখতে একপর্যায়ে তৎকালীন মেয়র তার নিজ ক্ষমতা বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় সীমানা প্রাচীরের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ করতে থাকেন। এ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর স্বপ্রণোদিত হয়ে মেয়রকে বিবাদী করে ফেনীর পরিবেশ আদালতে মামলা করেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর পাউবোর নির্ধারিত স্থানের আশপাশের বাসিন্দারা পৌরসভা ঘেরাও করে কড়া ভাষায় আগের নির্ধারিত স্থানে আবর্জনা ফেলতে নিষেধ করেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিলে তারা নিরাপত্তার অভাবে ওই স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত রয়েছেন।

পৌর শহরের বাসিন্দা স্বপন মূর্তজা বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নির্দিষ্ট স্থান না পেয়ে দুই মাস ধরে ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করে পাশের গলি কিংবা সড়কের ওপর রেখে দিচ্ছেন। বাসাবাড়ির মালিকরা বর্জ্যগুলো ডাস্টবিনের পাশে ও সড়কের আশপাশে বস্তায় ভরে ফেলে যাচ্ছেন। এসব বর্জ্য পচে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর ফলে ময়লার শহরে পরিণত হয়েছে সোনাগাজী পৌরসভা। এতে উৎপাত বেড়েছে মশা-মাছির।

ব্যবসায়ী গিয়াস জিয়াউর রহমান বলেন, ‘দুই মাস বাজার থেকে ময়লা অপসারণ না করায় আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। বণিক সমিতি, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’

সোনাগাজী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নুর নবী বলেন, ‘পৌর শহরের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ আমরা ব্যবসায়ীদের প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে পারছি না। বারবার অবগত করেও মিলছে না কোনো সমাধান।’

সোনাগাজী পৌরসভার সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন সেন্টু বলেন, ‘পৌরসভার পক্ষ থেকে জমি কিনে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। পৌরবাসী খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।’ পৌর প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দাবি জানান তিনি।

বর্তমানে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান বলেন, ‘পৌরবাসীর দুর্ভোগের কথা ভেবে আমরা দ্রুত ময়লা-আবর্জনা সরাতে উপায় খুঁজছি। স্থায়ী সমাধানের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও জনবসতিহীন এলাকায় বর্জ্যরে ভাগাড় স্থাপন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌর শহরের বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হবে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত