স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম চিরবিদায় নিলেন। শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এই বর্ষীয়ান সুরকারের মরদেহ ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আনা হয়। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কফিন মুড়িয়ে দেওয়া হয় জাতীয় পতাকায়। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার দেয় পুলিশের একটি চৌকস দল। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুজয় শ্যাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি একমাত্র মেয়ে রূপা মঞ্জুরী শ্যামসহ অনেক গুণগ্রাহী ও ভক্ত রেখে গেছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুজেয় শ্যামের নাম। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকেশ্বরীতে উপস্থিত হয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তার সহশিল্পী গায়িকা শাহীন সামাদ, গায়ক তিমির নন্দী, অভিনেতা-নির্দেশক মামুনুর রশীদ, সংগীতশিল্পী খোরশেদ আলম, শুভ্র দেব, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রিসহ অনেকে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকে শ্রদ্ধা জানান। পরে তার মরদেহ নেওয়া হয় বাসাবোর সবুজবাগে বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরে। সেখানেই দুপুরে মরদেহ সৎকার সম্পন্ন হয়।
শেষ দিনগুলোয় শরীরে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন এই শিল্পী। গত জুন মাসেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে সেপ্টেম্বরে তার হার্টে পেসমেকার বসানোর পর ইনফেকশন হয়।
১৯৬৯ সালে পরিচয় উল্লেখ করে শিল্পী তিমির নন্দী বলেন, পরবর্তী সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং এর বাইরেও আমরা অনেক কাজ করেছি। সুজেয় শ্যামের আধুনিক গান নিয়ে কম আলোচনা হয়েছে। বেতারের গানগুলো তো ইতিহাসের অংশ।
যন্ত্রসংগীত শিল্পী, সংগীতায়োজক এবং সংগীত পরিচালক হিসেবে সুজেয় শ্যামের সঙ্গে কাজ করেছেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, তিনি শেষ কয়েক বছর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে একজন লড়াকু শিল্পী হারালাম।
১৯৪৬ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সুজেয় শ্যাম। সংগীতে অবদানের জন্য ২০১৮ সালে তাকে একুশে পদক দেওয়া হয়। তার আগে ২০১৫ সালে শিল্পকলা পদক পান। ঢাকাই সিনেমার সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
তবে তার সুর করা ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’ ও ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই’ গান দুটি জাতীয় দিবসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর মধ্যে ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই’ গানটি তৈরি করা হয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। গীতিকার শহীদুল ইসলামের সঙ্গে মাত্র এক ঘণ্টায় গানটি তৈরি করেছিলেন তিনি।
