ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই পুকুরপাড়ে মাছ শিকারিদের তোড়জোড়। কারও হাতে বড়শি, কারও হাতে মাছের খাবার। আবার কেউ রোদ বাঁচতে ছাতা নিয়ে আসন গেড়েছেন পুকুরপাড়ে। বড়শিতে টোপ ফেলে অপেক্ষা করছেন মাছশিকারিরা। কোনো ধ্যান-জ্ঞান নেই, একটাই শুধু দৃষ্টি কখন পাটকাঠিটি তলিয়ে যায়। আর তখনই কারিশমা করে ছিপ হাতে জোরে টান। মাছ ধরতেই থেমে থেমে দর্শকদের চিৎকারে আনন্দঘন পরিবেশ পুকুরজুড়ে।
এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকায়। পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামে টিকিট কেটে বড়শিতে শখের মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন কিরণ মিয়া ওরফে আবু মিয়ার পুকুরে দিনব্যাপী মাছ শিকারের আয়োজন করা হয়। শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ উৎসব। এতে প্রতি বড়শি ৩ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে নিতে হয়েছে। শিকারিদের অনেকেই একাধিক বড়শি ও বিভিন্ন মাছ রাখার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে এসেছেন। 0অনেকেই সহযোগী নিয়েও এসেছেন।
এই মাছ ধরার উৎসবে বড়শিতে ধরা পড়ে রুই, কাতল, ব্রিগেড, মৃগেল, তেলাপিয়া, কালবাউশ, পাঙাশসহ দেশি প্রজাতির মাছ। পৌর এলাকায় উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন এক মিলনমেলা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার শিমরাইল গ্রামের মাছ শিকারি নাজিম উদ্দিন (৪০) বলেন, ‘শখের বশে টিকিট কেটে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে এসেছি। ৬ হাজার টাকা দিয়ে দুটি বড়শি বুকিং নিয়ে সকাল থেকে মাছ ধরছি। ছোট-বড় রুই-কাতল ও কার্পসহ বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা পড়েছে।
উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের টংটঙ্গিয়া গ্রামের লিটন মিয়া (৫০) বলেন, দূর-দুরান্তে মাছ শিকারে গিয়েছেন, তবে আজকের আয়োজনটি অন্তত ভালো। যে পরিমাণ টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছেন তত টাকার মাছ তিনি শিকার করেছেন। টাকাটা তাদের কাছে বড় বিষয় না, শখ পূরণেই বড় বিষয়।
পুকুরের মালিক ও আয়োজক কিরণ মিয়া ওরফে আবু মিয়া বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এবং বাইরের এলাকার মাছ শিকারিদের অনুরোধে টিকিটের মাধ্যমে মাছ ধরার আয়োজন করা হয়েছে। ৬ হাজার টাকায় একটি টিকিটের বিপরীতে দুটি বড়শিতে দুইজন মাছ ধরেছেন। উৎসমুখর পরিবেশে মাছ ধরার এই প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে।
মধ্যরাতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে: আহসান এইচ মনসুর