যুদ্ধের জন্য চীনের সেনাদের প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাইওয়ানের চারপাশে চীনের সেনাবাহিনীর বড় ধরনের সামরিক মহড়ার কয়েকদিন পর জিনপিংয়ের এই আহ্বান সামনে এলো। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির রকেট ফোর্সের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে শি জিনপিং যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার করার কথা বলেন। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতিকে ব্যাপকভাবে জোরদার করতে হবে। সৈন্যদের যুদ্ধের সক্ষমতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সেনাদের অবশ্যই কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার এবং যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, সামরিক বাহিনীকে বিস্তৃতভাবে প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে সেনাদের দৃঢ় যুদ্ধের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা আসবে, সেসব উতরে নিজেদের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি সেনাদের ‘রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা মেনে চলা ও মিশনের দায়িত্ব জোরদার করার আহ্বান জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বশাসিত এই দ্বীপের চারপাশে বেইজিং তার শক্তি প্রদর্শন ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, তারা তাইওয়ানকে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগ করতেও অস্বীকার করবেন না। শি বলেন, চীনের সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা এবং মূল স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা দখল করার পর তাইওয়ান দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং। এরপর থেকে তাইওয়ান নিজস্ব সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।
এর আগে, দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে ঘিরে সর্বশেষ মহড়া পরিচালনার পর তাইওয়ানের ওপর শক্তি প্রয়োগ বন্ধ না করার ঘোষণা দিয়েছিল বেইজিং। গত সপ্তাহে দেশটির তাইওয়ানবিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছিল, বহিরাগত হস্তক্ষেপ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একটি ছোট সংখ্যালঘুর গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চীনের শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে। স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজ ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে চীন। একত্রীকরণ ঠেকানো বিষয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের বক্তব্যের জবাবে সতর্কবার্তা ছিল সেই মহড়া। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সতর্ক করে চীন জানিয়েছিল, বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ বিষয়টি আরও জটিল করে তুলবে।
