রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান
কমান্ডার, চট্টগ্রাম নৌ-অঞ্চল
দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রাম বন্দরে পরপর তিনটি জাহাজে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটল। স্বাভাবিকভাবেই বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। আপনারা কীভাবে তা মনিটরিং করেন?
রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান : চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা ও বহির্নোঙর এলাকাসহ পুরো এলাকার নিরাপত্তা আমরা নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সমন্বিতভাবে করে থাকি। নৌবাহিনীর নিজস্ব ভেসেল ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেম (ভিটিএমএস), জাহাজ মনিটরিংয়ের জন্য অ্যাপসসহ নানা সফটওয়্যারের মাধ্যমে জাহাজের সব তথ্য আমরা পেয়ে যাই। এর মাধ্যমে আমরা যেকোনো জাহাজের গতিবিধি, জাহাজে কোনো সমস্যা হলো কি না, তা সহজে জানতে পারি। আর এ কাজটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে আমাদের সার্ভিস রুম। এজন্যই কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত পৌঁছাতে পারি।
দেশ রূপান্তর : ‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ উভয় জাহাজের প্রতিটিতে প্রায় ১১ হাজার টন ক্রুড অয়েল ছিল। এই আগুন নেভাতে কি শঙ্কিত ছিলেন আপনারা?
রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান : যেহেতু নিচের ট্যাংকে তেল ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যে শঙ্কা ছিল। কিন্তু আমরা ফোম ব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আগুন নির্বাপণ করেছি। এতে জাহাজের তেল যেমন নদীতে বা সাগরে মিশতে পারেনি, তেমনি বিস্ফোরণও হয়নি। বিশেষ করে বাংলার জ্যোতি জাহাজটি আমাদের বিভিন্ন তেল রিজার্ভারের পাশেই ছিল। তারপরও উভয় জাহাজের আগুন প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে নেভাতে সক্ষম হয়েছি।
দেশ রূপান্তর : কুতুবদিয়ায় এলপিজিবাহী ‘সোফিয়া’য় যে ৩৬ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলল; সেখানে এত বেশি সময় লেগেছে কেন?
রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান : এলপিজির চিত্র ভিন্ন। এখানে আগুন নেভাতে পাউডার ব্যবহার করতে হয়। আর জাহাজে যতক্ষণ পর্যন্ত গ্যাস থাকবে, তা জ¦লতেই থাকবে। তাই আমরা আগুন লাগার পর আমাদের টিম দিয়ে শুধু জাহাজের ওপর পানি দিচ্ছিলাম, যাতে জাহাজটি ঠান্ডা থাকে। জাহাজে থাকা গ্যাস যাতে বিস্ফোরণ হতে না পারে। এজন্যই দীর্ঘসময় ধরে জাহাজটিতে আগুন জ¦লেছে।
দেশ রূপান্তর : বাংলার জ্যোতি ও বাংলার সৌরভ যথাক্রমে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙরে আগুন লাগায় দ্রুত টাগবোটে পৌঁছে আগুন নেভানো গেছে। কিন্তু কুতুবদিয়ায় এলপিজিবাহী জাহাজের কাছে স্বাভাবিক গতিতে যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। আপনাদের জাহাজ এত দ্রুত কীভাবে স্পটে গেল?
রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান : বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কারণে আমাদের ও কোস্ট গার্ডের নৌযানগুলো টহলে রয়েছে। এখন আগুন লাগার কারণে আশপাশে থাকা জাহাজ ও টাগবোটগুলো দ্রুত পৌঁছাতে পেরেছে। এ ছাড়া আমাদের টাগবোটগুলোর গতিও অনেক বেশি।
দেশ রূপান্তর : অগ্নিনির্বাপণে কী পরিমাণ টাগবোট রয়েছে?
রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান : অগ্নিনির্বাপণে আমাদের পাঁচটি, কোস্ট গার্ডের দুটি ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রায় ছয়টি টাগবোট রয়েছে। এই টাগবোটগুলো অনেক দূর থেকে হাই স্পিডে পানি ছিটাতে পারে। ফায়ার ফাইটিংয়ে এগুলো অতুলনীয়। এ ছাড়া আমরা প্রতিদিন ফায়ার ড্রিল করে থাকি। তাই ফায়ার ফাইটিংয়ে আমাদের সদস্য সবাই দক্ষ।
