কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিম্নমানের কাজ করে। ফলে এর দুমাসের ব্যবধানেই নদীতে ধসে গিয়ে তলিয়ে যায় ডাম্পিং করা বালু-সিমেন্ট ভর্তি জিও ব্যাগ। এতে করে তীর সংরক্ষণ কাজের সুফল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন নদীর তীরবর্তী জনপদের বাসিন্দারা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের ফলে পাউবোর বরাদ্দের ৮০ লাখ টাকা তেমন কোনো সুফল বয়ে আনেনি।
জানা গেছে, গত জুন মাসে পেকুয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা রাবার ড্যাম লাগোয়া মুন্সিঘোনার ৪০০ মিটার এলাকায় মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ছয় হাজার বস্তা সিমেন্ট-বালু মিশ্রিত ব্যাগ ডাম্পিং করার মাধ্যমে মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শেষ করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৮০ লাখ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুন মাসে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাউবো থেকে কয়েক দফায় বিল উত্তোলন করে নিয়েছে। এরই মধ্যে গত আগস্ট মাসে মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা দুদফা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিচের দিকে নেমে গেছে ডাম্পিং করা বালু ভর্তি বস্তা। এই অবস্থায় অবশিষ্ট থাকা অংশের কাজও নদীতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
এলাকাবাসী জানান, কক্সবাজারের ঠিকাদার দুর্গা দাশের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঘরনার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাঘগুজারা রাবার ড্যাম লাগোয়া মুন্সিঘোনা এলাকায় মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজটি বাস্তবায়ন করে। ২০২৪ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সিমেন্ট-বালু মিশ্রিত জিও ব্যাগ নদীতে ডাম্পিং করা শুরু করে ঠিকাদারের লোকজন। তা জুনে শেষ হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন আওয়ামী লীগের ঘরনার হওয়ায় তারা কাজের শুরুতে অনিয়মের আশ্রয় নিলেও ভয়ে এলাকাবাসী বাধা দিতে সাহস করেনি। পক্ষান্তরে ঠিকাদার দুর্গা দাশ স্থানীয় জনগণকে ভীতিতে রেখে কাজটি বাস্তবায়ন করতে বরইতলী মুন্সিঘোনা এলাকার কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সহায়তা নেয়। এ সুযোগে চুক্তিভিত্তিক কাজের দায়িত্ব পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তীর সংরক্ষণ কাজের সন্নিকট এলাকায় স্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা বস্তা ভরে ফের একই এলাকায় ডাম্পিং করে। এ সময় জিও ব্যাগের উপরিভাগে কোনো কংক্রিট দেওয়া হয়নি।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছালেকুজ্জামান বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে ডাম্পিং করা বালু একই স্থান থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। এর ফলে গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় কাজের দুমাসের মধ্যেই বালুর বস্তা ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টে পুনরায় কাজ করে না দিলে তীরে অবশিষ্ট থাকা বালুভর্তি বস্তাসমূহ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।’
জানতে চাইলে কাজের তদারকিতে নিয়োজিত ঠিকাদার দুর্গা দাশ মোবাইল ফোনে মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অনিয়ম করেছি, তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কোথায় ছিলেন? কাজ তদারকির দায়িত্ব তো ওনাদের ছিল।’
এ ব্যাপারে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে ডাম্পিং করা বালুর কিছু বস্তা সরে গেছে। আমরা ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি, নদীতে নেমে যাওয়া বালু ভর্তি বস্তাসমূহ পুনরায় ডাম্পিং করার জন্য।’
