অফশোর ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের ভেতরে পৃথক আইন-কানুন দ্বারা বৈদেশিক মুদ্রায় প্রচলিত আলাদা এক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো সীমিত পরিসরে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে অফশোর ব্যাংকিং আইন-২০২৪ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশে অফশোর ব্যাংকিংয়ের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে।
মেঘনা ব্যাংক পিএলসি ২০২১ সাল থেকে অফশোর ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে। ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত নিয়মনীতির পরিপালন সাপেক্ষে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ফান্ডেড-নন ফান্ডেড ঋণ ও অগ্রীম বা বিনিয়োগ প্রদানের সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশের যেকোনো রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়া অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কগুলোর (ইপিজেড/ইজেড/এইচটিপি) শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত গ্রহণের পাশাপাশি আমরা তাদের স্বল্পমেয়াদি ঋণ ও অগ্রীম বা বিনিয়োগ, ঋণপত্র ও গ্যারান্টি সুবিধা প্রদান, বিল ডিসকাউন্টিং, বিল নেগোসিয়েশন এবং অন্যান্য বৈদেশিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বহিঃলেনদেন সেবা প্রদান করতে সক্ষম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে এরই মধ্যে আমরা নন-রেসিড্যান্ট ডিমান্ড ডিপোজিট, নন-রেসিড্যান্ট টার্ম ডিপোজিট ও ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের অধীনে ডিমান্ড ও টার্ম ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট চালু করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী মেয়াদ ভেদে আমরা সর্বোচ্চ মুনাফা দিচ্ছি। এ পর্যন্ত আমরা সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছি এবং আশা করছি এই বছরের মধ্যে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পারব। কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে হিসাব চালু করেছে। সিঙ্গাপুর, ইউএসএ, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কোরিয়া এবং চায়না থেকে এখন পর্যন্ত বেশি সাড়া পাচ্ছি।
প্রবাসীরা এবং বিদেশিরা যেন সহজেই দেশের বাইরে থেকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, সেজন্য মেঘনা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এডিটেবল অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফরম আপলোড করা হয়েছে। ফরমটি পূরণ করে, সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত ইমেইল এড্রেসে পাঠিয়ে দিলে আমরা অ্যাকাউন্ট খুলে দেব এবং অ্যাকাউন্ট নম্বর গ্রাহকের ইমেইল আইডিতে পাঠিয়ে দেব। ভবিষ্যতে দেশে-বিদেশে অফশোর ব্যাংকিং-সংক্রান্ত রোড শো করার প্ল্যানও আমাদের আছে।
যেহেতু বিদ্যমান আইনে অফশোর ব্যাংকিংয়ে আমানতে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়, আয়কর মুক্ত, বহু মুদ্রায় অ্যাকাউন্ট খোলা যায় এবং আমানতকৃত ডিপোজিট মুনাফাসহ ফেরত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অফশোর ব্যাংকিং আমানত এবং বিনিয়োগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা খাতে অবদান রাখতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
