উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ১৬তম সম্মেলনের পর্দা নেমেছে। রাশিয়ার কাজান শহরে গত মঙ্গলবার শুরু হয় তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন। গতকাল বৃহস্পতিবার সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় এ সম্মেলন। চীন, ভারত, তুরস্ক, ইরানসহ বিশে^র প্রায় ২০টি দেশের প্রধান এবারের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। এবারের সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ব্রিকসের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিরসন ও বিশ্বমঞ্চে বৈশ্বিক দক্ষিণকে জোরদার ভূমিকার জায়গায় নিয়ে আসা। বিশ্বনেতাদের এ সম্মেলন থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মস্কোকে বিচ্ছিন্ন করার যে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে বার্তা দিতে চেয়েছে রাশিয়া।
২০২২ সালে পুতিন ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর আদেশ দেওয়ার পর থেকে পশ্চিমাদের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে রাশিয়ায় এটাই সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সম্মেলন। মস্কোর পক্ষ থেকে ব্রিকসকে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট-৭-এর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনে একটি নতুন বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা তৈরির কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এটি একটি গতিশীল এবং অপরিবর্তনীয় প্রক্রিয়া। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিষয়ে কর্র্তৃত্ব জোরদারে দক্ষিণের অগ্রগামিতা ও তীব্র আঞ্চলিক সংঘাতসহ বৈশ্বিক এজেন্ডায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে তিনি ব্রিকস সদস্যদের কাজ করতে আহ্বান জানান। এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও। ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর এটাই ছিল তার প্রথম রাশিয়া সফর। বৃহস্পতিবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেন গুতেরেস। এ আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে কথা বলেন তারা। তবে জাতিসংঘ প্রধানের রাশিয়া সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কিয়েভ। এ ছাড়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে বৈঠক করেছেন পুতিন।
পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বৈশ্বিক দক্ষিণকে জোরদার ভূমিকায় দেখতে চায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোট। গত বুধবার ব্রিকসের যৌথ বিবৃতিতে বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও কাঠামোতে উদীয়মান অর্থনীতি, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশ বিশেষ করে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সক্রিয় এবং অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এদিকে ব্রিকস সম্মলনে পাঁচ বছর পর ভারত ও চীনের শীর্ষ নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার মোদি ও শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় এবং কূটনৈতিক নানা বিষয়ে বৈঠক করেন। সম্মেলন শুরুর আগে দুই দেশই লাদাখ বিষয়ে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছিল। দুই দেশের প্রধান নেতা ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সমঝোতা সত্ত্বেও এ বৈঠকের পর কোনো যৌথ বিবৃতি দেয়নি দুই দেশ।
