ডলার নিয়ে মুখোমুখি মাস্ক-গেটস

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:০৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৫ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে সরাসরি প্রচারে নেমেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তিনি একটি পিটিশনে দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে যারা ট্রাম্পকে ভোট দিতে চান, তাদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। গত শনিবার থেকে ওই পিটিশনে স্বাক্ষরকারীদের থেকে প্রতিদিন একজনকে ১০ লাখ ডলার অর্থ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, এ বিষয়ে ইলন মাস্কের পলিটিক্যাল অ্যাকশন গ্রুপকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। মাস্কের মতো সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকলেও কমলাকে সমর্থন করা সংস্থায় গোপনে পাঁচ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন বিশ্বের আরেক শীর্ষ ধনী বিল গেটস।

আসন্ন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। ফলে মাস্কের পিটিশনকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্কের এই কাজ নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ভোটারকে ভোট দিতে বা নিবন্ধিত হতে প্ররোচিত করতে অর্থ প্রদান অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিচার বিভাগের নির্বাচন নথি অনুযায়ী, শুধু নগদ অর্থ প্রদান নয়, আর্থিকভাবে মূল্যায়ন করা যায় এমন কোনো কিছু দেওয়ার বিষয়টিও নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন। এই ক্যাম্পেইন দেশটির নির্বাচনী আইনলঙ্ঘন করছে বলে মাস্ককে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের আহ্বানের পর মঙ্গলবার দেশটির বিচার বিভাগের কাছে এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে সাবেক রিপাবলিকান প্রসিকিউটরদের একটি দল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের অধীনস্ত পাবলিক ইন্টেগ্রিটি সেকশন এই চিঠি পাঠিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিচার বিভাগ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেনি। এমনকি কবে মাস্ককে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি বিচার বিভাগ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাত দোদুল্যমান রাজ্যে ভোটারদের ‘বাক স্বাধীনতা এবং অস্ত্র বহনের অধিকারের পক্ষে ওই পিটিশন স্বাক্ষর করতে উৎসাহিত করছেন মাস্ক। ট্রাম্পের পক্ষে এমন প্রচার ভালোভাবে নেয়নি অনেক রিপাবলিকানও। বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো সাবেক রিপাবলিকান প্রসিকিউটরদের চিঠিতে বলা হয়, আধুনিক রাজনীতির এমনটি কখনো দেখা যায়নি। এটি খুবই উদ্বেগের। আইন লঙ্ঘনের কারণে এখনই ব্যবস্থা না নিলে, নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গত রবিবার এনবিসির এক অনুষ্ঠানে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান পেনসিলভেনিয়ার ডেমোক্রেটিক গভর্নর জোশ শাপিরো। তিনি বলেন, নিবন্ধিত ভোটারদের মাস্কের টাকা দেওয়ার ঘোষণা খুবই উদ্বেগের ব্যাপার। নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ রিক হ্যাসেন বলেন, মাস্কের প্রস্তাব নিশ্চিতভাবে অবৈধ। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক পল বারম্যানও এটিকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছেন। দেশটিতে আইন অনুযায়ী ভোটের জন্য নিবন্ধন ও অর্থ প্রদান কিংবা এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া বা গ্রহণ করলে ১০ হাজার ডলার জরিমানা বা পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তবে দেশটির ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ব্র্যাড স্মিথ বলেছেন, কৌশলটি একটি ফাঁক দিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ব্র্যাড স্মিথ বলেন, মাস্ক ভোট দিতে নিবন্ধন করার জন্য অর্থ প্রদান করছেন না। তিনি একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করার জন্য তাদের অর্থ প্রদান করছেন। তবে নর্থ-ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির নির্বাচনী আইনের অধ্যাপক মাইকেল কাং এই কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন।

এদিকে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসের প্রচার শিবিরে প্রায় ৫ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় ধনী বিল গেটস কয়েক দশক ধরেই রাজনীতির বাইরে। একটি অলাভজনক সংস্থা ফিউচার ফরোয়ার্ডের মাধ্যমে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। কমলার সমর্থনে বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ করা প্রধান গ্রুপ এটি। কমলাকে সমর্থন করা সংস্থাকে অনুদান দেওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন গেটস। তবে নিজের বিবৃতিতে কমলাকে সমর্থন বা অনুদান নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি বিল গেটস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত