রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা না থাকার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হবে না। আবার তাড়াহুড়া করা হবে না। শিগগিরই নেওয়া হবে।
গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম উপস্থিত ছিলেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী বলেছেন সেটাও আমাদের নজরে আনা হয়েছে। তার পদত্যাগের দাবিতে একটা আন্দোলন হচ্ছে। পদত্যাগের যে দাবি উঠেছে, সেটাও বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে সাংবিধানিক সংকট নিয়ে যে কথা বলেছে, সেটাও আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ওই দলেরই দু-একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলছেন, সাংবিধানিক সংকট হবে না। এখন একটা দাবি হচ্ছে যে, রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হবে।’
বিষয়টা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে উল্লেখ করেন বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছাতে পারব বলে মনে করছি। দাবিটি যেহেতু গণদাবি, সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করতে হবে।’
রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে দেশ জুড়ে নানা আলোচনার মধ্যে বুধবার দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের তিন নেতা অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে দলটির অবস্থান জানিয়েছেন। বিএনপি এ মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চায় না। দলটি মনে করে, রাষ্ট্রপতি পদে শূন্যতা হলে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে।
গত কয়েক দিনে মো. সাহাবুদ্দিনকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখ খুঁজতে সরকারের তরফ থেকে নানামুখী তৎপরতার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব করা হলেও তিনি রাজি হননি, এমন খবরও বেরিয়েছে সংবাদমাধ্যমে।
