জেলার ফুটবলে গুরুত্ব দিতে হবে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৪, ১২:২৭ এএম

শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটে চার বছরের জন্য সহসভাপতি ও সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ও ইকবাল হোসেন। প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি সুদীপ্ত আনন্দের কাছে দুজনই জানিয়েছেন তাদের লক্ষ্যের কথা নতুন মুখ হয়েও সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন। প্রতিক্রিয়াটা জানতে চাই

নাসের শাহরিয়ার জাহেদী : বাফুফের নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ। পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানটি পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য মাননীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ সব পৃষ্ঠপোষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা। বিশেষ করে দেশের যে সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনটা ক্রীড়াঙ্গনে প্রথম নির্বাচন। অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনটা হয়েছে। আমি মনে করি, নিজেদের ভেতরে এই সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতা থাকলে সবাই মিলে, সব দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের মানুষকে আবার সুন্দর একটা ফুটবল উপহার দিতে পারব।

ফুটবল উন্নয়নে কোন কোন জায়গায় বেশি গুরুত্ব দিতে চান?

জাহেদী : আসলে ফুটবলকে তুলে আনতে হলে জেলার ফুটবলে গুরুত্ব দিতে হবে। ডিএফএগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং প্রতিটি ডিএফএ’র জন্য একটি ফুটবল মাঠ নির্ধারণ করতে হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে অন্তত একটি করে অ্যাকাডেমি গড়তে হবে। পাশাপাশি ঢাকার যেই লিগগুলোর জন্য নির্ধারিত স্টেডিয়াম ঠিক করতে হবে এবং খেলাগুলো রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় আয়োজন করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পয়নশিপ লিগের খেলা যদি বেলা ৩টায় হয়, ওয়ার্কিং ডেগুলোতে ঢাকায় দর্শক মিলবে না। খেলাটা সন্ধ্যায় হলে স্টেডিয়াম ভরে যাবে। আমরা কার্যনির্বাহী কমিটি চেষ্টা করব তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে এই সমস্ত বিষয় সমাধান করতে এবং ফুটবলটা যাতে আবার জাগ্রত হয়।

এক নম্বর সহসভাপতি হওয়ায় ভালো লাগা তো নিশ্চয় অন্যরকম?

জাহেদী : আমি তো মনে করি এখানে চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বেশি। কারণ সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনই সর্বোচ্চ প্রত্যাশাও একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা ছয়জন ছিলাম সহসভাপতি পদে। আপনারা খুশি হবেন, আমরা অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে নির্বাচন করেছি এবং চারজন কাগজে-কলমে সহসভাপতি থাকলেও ইনশাআল্লাহ কাজের মাঠে ফুটবল ফেডারেশন এই ছয়জনকেই পাবে।

একটা সংস্কৃতি আছে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে যিনি সহসভাপতি নির্বাচিত হন, তাকে জাতীয় দল কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়। জাতীয় দলকে এগিয়ে নিতে আপনার তাৎক্ষণিক ভাবনাটা জানতে চাই।

জাহেদী : প্রথম কথা হলো আমাদের নির্বাহী কমিটি ঠিক করবে কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া আমি অন্য কোনো দায়িত্বও হয়তো পছন্দ করতে পারি। আবার নির্বাহী কমিটিও অন্য কিছু মনে করতে পারে। তবে আমি মনে করি জাতীয় দলকে শক্তিশালী করতে দুটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এক, চলমান যে দল আছে, এদের আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি পাঁচ বছরের একটা পরিকল্পনা নিয়ে ১৪-১৫ বছরের বাচ্চাদের ভালো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। তখন জাতীয় দল আরও ভালো করবে।

বাফুফে সবসময় একটা আর্থিক দৈন্যের মধ্যে থাকে। আপনাদের এই নতুন কমিটি ফিফা-এএফসির বাইরে থেকে এই আর্থিক সংকট কাটাতে কি বিশেষ কোনো ব্যবস্থা  নেবে?

জাহেদী : আমার মনে হয় আর্থিক অসুবিধা থাকবেই। তবে যদি প্রচেষ্টা সম্মিলিত হয় এবং আপনি যদি ফুটবলকে প্রাণবন্ত করতে পারেন, তখন স্পন্সররা আগ্রহী হবে, তাতে আর্থিক দৈন্যও কেটে যাবে। এটা আমার মনে হয় বড় সমস্যা হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত