বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে অনেক রকমের সাংবিধানিক সংকট তৈরি করার পাঁয়তারা চলছে। সাংবিধানিক সংকট যদি হয়, রাষ্ট্রীয় সংকট যদি হয়, রাজনৈতিক সংকট যদি হয়, সেই রাজনৈতিক সংকটের পেছনে কী শক্তি আছে, সেটা আগে আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে। যাতে কোনো রাষ্ট্রীয় সংকট সৃষ্টি না হয়, যাতে আমাদের সাংবিধানিক কোনো সংকট শুরু না হয়ে যায় এবং সেই সাংবিধানিক সংকট সামনে রেখে ফ্যাসিবাদ ও পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা যাতে কোনো সুযোগ না নিতে পারে, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত ‘অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের গর্বিত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে’ সালাউদ্দিন এ কথা বলেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কেউ কেউ আওয়ামী লীগকে ঐতিহ্যবাহী দল বলে দাবি করেন। কিন্তু তাদের ঐতিহ্য হলো দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠা, হত্যা, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য এবং ভোট চুরি। তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডবের মাধ্যমে রাজপথে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
সভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগস্ট বিপ্লবের শহীদরা জাতীয় বীর। দেশ ও জাতির জন্য তাদের এই আত্মত্যাগের কথা কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের জন্য যথাযথ সম্মানের ব্যবস্থা করতে হবে।’
এ সময় সালাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। আমাদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নেই। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ জনতার দাবি। সিদ্ধান্ত সারা দেশে প্রশংসিত হয়েছে, সবাই গ্রহণ করেছে। গুলি করে ছাত্র মারার পর আওয়ামী লীগ আবার এই দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে কি না তা জনতার আদালতে সিদ্ধান্ত হবে। ট্রাইব্যুনালে একটা সংশোধনী আনার কথা শুনছি। সংগঠন হিসেবে, রাজনৈতিক দল হিসেবে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত হলে রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও দলের বিচার হবে। আমরা এখন কোনো ফয়সালা দিতে চাই না। আদালত ও দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।’
সভায় কূটনৈতিক কোরের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান, বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতা এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং অর্ধ সহস্রাধিক হাত-পা হারানো ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তিনটি অধিবেশনে এই আয়োজন ছিল। রবিবার সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দেড়টা পর্যন্ত শহীদ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন, দুপুর দেড়টায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও দুপুর ৩টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ এলডিপির প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাস্তায় ছিল বিএনপি, ছাত্ররা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা। যার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এখন আবার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ঘোলাটে করার জন্য একটা প্রতিক্রিয়াশীল চক্র চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার ইঙ্গিত বহন করে বঙ্গভবনের সামনে মিছিল। নতুন করে আরেকটা রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা চক্রান্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ১২ দলীয় জোটসহ সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’
সভায় বাংলাদেশ এলডিপির ৫ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে চেয়ারম্যান হয়েছেন শাহাদাত হোসেন সেলিম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম রওনক, মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু, অতিরিক্ত মহাসচিব এম এ বাসার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মহিনউদ্দীন আহাম্মদ। কমিটি ঘোষণা করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। আবদুল করিম আব্বাসীকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে।
