আওয়ামী লীগসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে যে রিট করা হয়েছে, সে খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতারা। তারা বলেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে তাদেরও ভূমিকা রয়েছে। দলগুলোর নেতাকর্মীরা নিহত হয়েছেন। অনেকে পঙ্গু হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। রাজনৈতিক দলগুলো মনে করছে, কোথাও না কোথাও ভুল হচ্ছে। আবার কিছু দল বলেছে, যদি শেষ পর্যন্ত রিট হয়ই, তাহলে তারা বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করবেন। সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমি নিশ্চিত না, যদি এটা হয়েও থাকে, তাদের কাছে জিজ্ঞেস করেন তারা কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা সম্পর্কে জানে কি না। সিপিবির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে রবিবার রাতেও আমার সঙ্গে কথা বলেছে। তারা জানতে চেয়েছে, আমরা তাদের সঙ্গে একটা বৈঠক করতে পারি কি না। আমরা আজ মঙ্গলবার তাদের সঙ্গে বসব। আমার ধারণা, কোথাও ভুল হয়েছে।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘গণমাধ্যমে আমাদের খবরটি দেখেছি। বাসদ নামে তিনটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। কোনটার বিষয়ে তারা বলেছেন জানি না। যদি আমাদের দল হয়ে থাকে, তবে আমরা আইনি লড়াই করব। সিপিবি, বাসদসহ আমাদের জোটের বামপন্থি সব দলই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিল। আমাদের ছাত্রসংগঠনগুলোও এ লড়াইয়ে ছিল। এমনটা যদি হয়ে থাকে, তবে আমরা আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।’
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘যে সমন্বয়করা স্বৈরাচার হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অবদান সম্পর্কে জানে না, তারা আর যাই হোক মেধাবী ও রাজনীতিসচেতন ব্যক্তি হতে পারেন না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে এলডিপির চার নেতাকর্মী নিহত, চারজনের অঙ্গহানি ও ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ১৬ বছরে হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা দল এলডিপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে হাইকোর্টে সমন্বয়কদের রিট করার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে দুঃখ প্রকাশ করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের কাছে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ জানাই। সেই সঙ্গে হাইকোর্টে করা রিট থেকে এলডিপির নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই।’
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই আন্দোলনে জাতীয় পার্টির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে এবং জেল খাটতে হয়েছে। এরপরও আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলই যখন সুযোগ পেয়েছে, তখনই জাতীয় পার্টির ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। এখন বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। এটা দুঃখজনক। দল ছোট হলে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা সহজ হয়। আমরা যতদূর জানি, যখন একটা দল সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকে, তখন তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। জাতীয় পার্টি তো কোনোকালেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়নি। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হিসেবে আমরা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি মাত্র।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা এবং ১১টি দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে আদালতে রিট হয়েছে। গতকাল সোমবার হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও হাসিবুল ইসলাম পৃথক দুটি রিট আবেদন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরীকত ফেডারেশন, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (বড়ুয়া), গণতন্ত্রী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের রাজনৈতিক কর্মকা- চালানোর অনুমতি না দিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।
