ভোলার বোরহানউদ্দিনে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা নেওয়ার পর অর্ধশতাধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ৫৩ জনকে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার জ্ঞানদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিভাবক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রীদের অনেকেই সকালে না খেয়ে বাড়ি থেকে এসেছে। ওই অবস্থায় টিকা দেওয়ায় অনেকে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। অনেকে বমি করে দেয়। এমন ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা টিকা দিতে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চড়াও হন। তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিরুপম চন্দ্র সোহাগ জানান, আতঙ্ক থেকে ছাত্রীদের মধ্যে এমনটা হয়েছে। এটা এক ধরনের মাস-সাইকোলজিক্যাল ইলনেস। একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাকে দেখে অন্যদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভয়ের কিছু নেই। নার্ভাসনেস থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। বিশ্রাম নিলে সুস্থ হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইহানুজ্জামান জানান, সকাল ১২টার দিকে ওই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণির ছাত্রীদের টিকা দেওয়া হয়। এ সময় কিছু ছাত্রী অসুস্থবোধ করলে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে ৫৩ জন ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান জানান, চিকিৎসকদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তারপরও শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে ১০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার উপজেলার বড়শালঘর ইউএমএ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সকালে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পরে একে একে একই শ্রেণির অন্তত ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের বেশির ভাগই মাথা ঘুরে খিঁচুনি হয়ে পড়ে যায়। এর মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। কয়েকজনকে স্কুলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বলেন, শিক্ষার্থীদের সবাই এখন সুস্থ এবং নিরাপদ আছে। তারা যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে, এর নাম গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ। সাধারণত মানসিক ও আবহাওয়া থেকে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে রয়েছে বলে জানান তিনি।
