স্বপ্নের শাটল চালু ১৫ নভেম্বর

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ১০:১৯ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ক্যাম্পাসে চক্রাকার বাস বা শাটল সার্ভিস চালু করা। সে দাবি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ নভেম্বর ‘গণঅভ্যুত্থানের রঙ’ লাল রঙের তিন বাস দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ স্বপ্ন চালু করার পরিকল্পনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এটি চালু হলে ক্যাম্পাসে মাত্রাতিরিক্ত রিকশাভাড়া, জ্যাম, রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাসহ নানাবিধ সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য শাটল সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে ইতিমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে রুট ও স্টেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনই সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চক্রাকারে চলবে এ বাস। ১৫ মিনিট পরপর স্টেশন থেকে ছাড়বে তিনটি বাস। প্রথম তিন মাস পরীক্ষামূলকভাবে চলবে এ সার্ভিস। এরপর শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী পরিচালনা করা হবে বলে জানায় এ দপ্তর।

পরিবহন অফিসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাসগুলো সুফিয়া কামাল হল এবং নীলক্ষেত থেকে ছাড়া হতে পারে। চক্রাকারে বাসগুলো একুশে হল, কার্জন হল, মোকারম ভবন, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন, টিএসসি, চারুকলা, কলাভবন, ভিসি চত্বর হয়ে নীলক্ষেত মোড়ে আসবে। এ ছাড়া নীলক্ষেত মোড় থেকে ছাড়া বাস পলাশী, ফুলার রোড, জগন্নাথ হল স্টেশনেও থামবে। চালুর আগে তিনটি বাসের জন্য চূড়ান্তভাবে রুট নির্ধারণ করা হবে এবং প্রয়োজনে সংশোধন করা হবে বলে জানায় এ অফিস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালকের অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য এ সার্ভিসটি চালু করতে বছরে প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকা খরচ হবে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস উপহার পেতেও চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া চব্বিশের অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষার্থে বাসের রঙ লাল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে শাটল বাস সার্ভিস চালু, রুট নির্ধারণ, ক্যাম্পাসে গণপরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ছয়টি প্রবেশমুখে ‘বার’ স্থাপনের বিষয়ে গত সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) খোন্দকার নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে। উভয়ই এসব বিষয়ে আলোচনা করেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত রশিদ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে চলাফেরার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দুঃখ সীমাহীন। সিন্ডিকেট করে মাত্রাতিরিক্ত রিকশাভাড়াসহ নানাবিধ সমস্যায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। একাধিক নগর পরিকল্পনাবিদের সঙ্গে কথা বলার পর তাদের অধিকাংশেরই মতামত হলো এ সমস্যার সবচেয়ে কার্যকরী সমাধান অযাচিত যানবাহন সরিয়ে দিয়ে ক্যাম্পাসে চক্রাকার বাস চালু করা। এ সমাধানই আসলে ঢাবির শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি। অতীতেও ক্যাম্পাসে চক্রাকার বাস চালুর জন্য আমরা দাবি জানিয়েছি, বিগত প্রশাসনকে অবগত করেছি। তবে ফ্যাসিস্ট প্রশাসন বরাবরের মতোই আশ্বাস দিয়ে তা আর পালন করেনি। আমরা পুনরায় ক্যাম্পাসে চক্রাকার বাস চালু করার দাবি ভিসি স্যারের কাছে উত্থাপন করেছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সদিচ্ছাও লক্ষণীয়।’

শাটল সার্ভিস চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিবহন ম্যানেজার মো. কামরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাবির শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের চক্রাকার বাস বা শাটল সার্ভিস আমরা চালু করতে যাচ্ছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন খুবই আন্তরিক। আগামী ১৫ তারিখ, না হলে এরপর যেকোনো দিন এ সার্ভিস উদ্বোধন করা হবে। প্রাথমিকভাবে তিনটি বাস দিয়ে আমরা পরীক্ষামূলক চালু করছি। এরপর শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী এর সংখ্যা বাড়তে পারে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে এটি দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসে শাটল বাস সার্ভিস চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ বাস সার্ভিস দ্রুত চালু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত এবং এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত