তত্ত্বাবধায়ক সরকার

পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় পক্ষভুক্ত হলো বিএনপি

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:২৪ এএম

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল-সংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের বৈধতা প্রশ্নে রুলের মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছে বিএনপি। রুল সমর্থন করে আদালতকে সহায়তা করতে (ইন্টারভেনার) দলটির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের করা আবেদন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেয়।

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের আবেদনটি গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। সুতরাং শুনানির সময় আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করব।’ আজ বুধবার পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে মামলার ওপর এই বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২২ অক্টোবর একই বেঞ্চ শুনানির জন্য এদিন ধার্য করে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে গত ১৯ আগস্ট রুল দেয় হাইকোর্ট। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং দুই তরুণ ভোটার জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমানের পক্ষে জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। একই বছরের ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদন দেন। এ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।

রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ছিল। কারণ, এ ধরনের অনেকগুলো সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে গণভোটের কথা বলা আছে। কিন্তু গণভোট করা হয়নি। এ সংশোধনী জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতাকে হ্রাস করে দিয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের অনেকগুলো ধারার সংশোধন অযোগ্য করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত