প্রায় তিন ঘণ্টার লম্বা ছাদখোলা বাস ভ্রমণ শেষে সাফজয়ী নারী ফুটবল দল যখন বাফুফে ভবনে পৌঁছায় ততক্ষণে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত ছুঁইছুঁই। তার অনেক আগে থেকেই ফুটবল ভবনে অপেক্ষায় ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দীর্ঘ সময় দলের অপেক্ষা থাকাতেও তার ক্লান্তি নেই। মেয়েরা যে জাতির জন্য বয়ে এনেছেন অনেক বড় সম্মান। তাতে ভীষণ খুশি তরুণ উপদেষ্টা মেয়েদের হাতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে তুলে দিয়েছেন কোটি টাকার চেক। সেইসঙ্গে দিয়েছেন সুসংবাদ। সাফজয়ী মেয়েদের আসছে শনিবার বেলা ১১টায় নিজ বাসভবনে ডেকেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারপ্রধানের কাছ থেকে নিশ্চয়ই আরও বড় কিছুই পাবেন সাবিনারা।
নেপালের মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে আরেকবার দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হওয়ায় দলের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন গতকাল (বুধবার) বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যাক টু ব্যাক দ্বিতীয়বারের মতো নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দেশে ফেরার পর তাদের সংবর্ধনা জানাতে আমি বাফুফেতে এসেছি এবং আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবল দলের সঙ্গে দেখা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আগামী শনিবার বেলা ১১টায় তিনি তার বাসভবনে নারী ফুটবল দলকে দাওয়াত করেছেন। মেয়েরা সেদিন স্যারের সঙ্গে দেখা করবেন। নারী ফুটবল দলের এই জাতীয়, আন্তর্জাতিক অর্জন এবং জাতিকে এমন সুন্দর একটা বিজয় উপহার দেওয়ার জন্য আমরা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকে নারী ফুটবল দলকে ১ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছি এবং একই সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও একটা পুরস্কার (২০ লাখ টাকা) ঘোষণা করেছে। আমরা তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছি দেশবাসী ও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে।’
ক্রীড়া উপদেষ্টা অভিভূত হয়েছেন দশরথ স্টেডিয়ামে হাজারো নেপালি সমর্থকের সামনে বাংলাদেশের মেয়েদের অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে শিরোপা জিতে নিতে, ‘নেপালের স্টেডিয়ামের যে ক্রাউড চিয়ার করছিল, সেই ক্রাউডের বিপক্ষেও তারা দারুণ আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। এর জন্য আবারও তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দেশবাসী যেভাবে তাদের বরণ করে নিয়েছে, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’
নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্রিকেটের সঙ্গে ফুটবলের বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ও বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের মধ্যে কিছু বৈষম্য ও সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে কিছু অভিযোগ আছে। আমরা সেগুলো জেনেছি এবং সেই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে বাফুফের সঙ্গে কথা বলেছি। বিসিবির সঙ্গেও কথা বলছি। এই বিষয়গুলো আমরা দ্রুতই সমাধান করতে পারব বলে আশা রাখছি। আগামী দিনে বাংলাদেশের নারীরা যেভাবে আন্তর্জাতিক অর্জন ছিনিয়ে আনছে, আশা করি আরও বড় কোনো টুর্নামেন্ট, আরও বড় কোনো শিরোপা তারা ছিনিয়ে আনবে এবং এ ব্যাপারে যেকোনো ধরনের সহায়তা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করার জন্য সর্বোচ্চ সদিচ্ছা আছে।’
ক্রীড়াবিদদের মান বাড়াতে ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস ভিলেজ করার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ, ‘আমরা বড় একটা স্পোর্টস ভিলেজ গড়ার কথা ভাবছি। যেখানে সব ফেডারেশনগুলোকে জায়গা করে দিতে পারব। প্রোপার ফ্যাসিলিটিজ দিতে পারব। আমি যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলাম, সেখানে স্পোর্টস একাডেমি দেখেছি এবং স্বপ্ন আছে বাংলাদেশেও যাতে এ রকম একটা স্পোর্টস ভিলেজ করতে পারি।’
ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বাফুফের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আসিফ, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম যে বাফুফের বাজেট মন্ত্রণালয় আটকে রেখেছিল এবং বাফুফের সঙ্গে মন্ত্রণালয় কিংবা বিসিবির যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক, স্পোর্টসে তো এ রকম হওয়া উচিত না। এখানে কোনো রাজনীতি হওয়া উচিত না। স্পোর্টসকে একটা ইউনিফাইড জায়গা থেকে দেখতে হবে। আজকে জেতার পর বিসিবি একটা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আমরা স্পোর্টসকে এক জায়গায় দেখতে চাই এবং সার্বিক উন্নয়নে যাতে সবাই এক জায়গায় এসে কাজ করতে পারি, সেটা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
