‘ভাষা না জানায় মধ্যপ্রাচ্যে সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশিরা’

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম

আরবি শিক্ষা নিয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স বাড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের দেশের শ্রমিকরা ভাষা না জানার কারণে অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগামীতে যাতে আমাদের জনশক্তির অপচয় না হয় সেদিকে সবার খেয়াল রাখা দরকার। রেমিট্যান্স বাড়াতে আরবি ভাষা শিক্ষা নেওয়ার ওপর জনমত সৃষ্টি করা জরুরি।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মধ্যপ্রাচ্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো অপরিহার্য’ সেমিনারে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) চেয়ারম্যান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, আমাদের দেশ থেকে যখন প্রবাসীরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যায় তখন তাদের ভাষা শিখতেই অনেক সময় লেগে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের দেশের শ্রমিকরা ভাষা না জানায় অনেক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন। একজন শ্রমিক যাতে আরবি বুঝতে ও বুঝাতে পারেন, পাশাপাশি লিখতে পারে সেটা জানা খুবই দরকার। এজন্য দেশ থেকেই আরবি ভাষা শিখিয়ে পড়িয়ে পাঠাতে হবে। এটা করা গেলে মানবিক, সামাজিক এবং আর্থিক মর্যাদা বাড়বে। দেশে বাড়বে রেমিট্যান্স প্রবাহ।

তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষাবোর্ডগুলো সার্টিফিকেটধারী লোক সৃষ্টি করেছে। সেই সার্টিফিকেটধারী লোকেরা বিদেশে হয়তো গিয়েছেন বা যাননি। যদি না যান, তাহলে কেন যাননি। অর্থাৎ আমাদের এখানে বড় একটা শুভঙ্করের ফাঁকি বা অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা কাজ করেছে বলেই আজকে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে এই দুর্গতি। অথচ এরাই আমাদের মানব সম্পদ।

সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কর্মীরা মধ্যপ্রাচ্যে অধস্তনের অধস্তন হিসেবে কাজ করেন। সবচেয়ে প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে পাকিস্তানি ও শ্রীলঙ্কান বা অন্যরা হচ্ছে বাংলাদেশিদের বস। এটার অন্যতম কারণ ভাষা জানা। তারা ভাষা জানার কারণে মালিকদের কাছাকাছি যেতে পারলেও আমরা যেতে পারি না, তাদের বুঝাতেও পারি না। যে কারণে চাইলেও মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শ্রমিকরা বড় কোনো পদে যেতে পারেন না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তিনটি ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেগুলো হলো- রেমিট্যান্স, গার্মেন্টস ও গ্রামীণ উন্নয়ন। প্রবাসীদের বলা হয় রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সত্যিকার অর্থে তারাই আসল যোদ্ধা। আমরা জাতিগত ভাবে স্বাধীনতা লাভ করেছি। তবে অর্থনৈতিকভাবে এখনও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারিনি। এজন্য বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্যদের কাছে কম্প্রোমাইজ করতে হয়েছে। প্রবাসীরা যে বেতনে চাকরি করেন তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ দেশে পাঠান। তারা ওভারটাইম করে বাড়তি আয় করেন। বৈদেশিক মুদ্রার পুরোটাই তারা দেশে পাঠান। প্রবাসীরাই অর্থনৈতিক মুক্তিযোদ্ধা। তাই তারা যেসব দেশে যাবেন সেখানকার ভাষা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের দিয়ে পাঠালে প্রবাসী আয়ের রাস্তা আরও সমৃদ্ধ হবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক উপ-প্রধান প্রকৌশলী  মো. তামজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম খলিফা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্দ শহীদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আউয়াল সরকার প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত